পরিকল্পনামন্ত্রী ড. এম এ মান্নানের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ‘সুনামগঞ্জের অভ্যন্তরীণ যে রাজনীতি রয়েছে, তা আমার জানা ছিল না। জানলে আমি পাঁচ জন এমপির পক্ষে ডিও দিতাম না।’ পরিকল্পনামন্ত্রীর সঙ্গে তার ৫০ বছরের বন্ধুত্ব দাবি করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, ‘ঢাকা-সিলেট রেললাইন প্রকল্প নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রীর সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির খবরে আমি বিস্মিত। এ নিয়ে আমি পরিকল্পনামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব।’ গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সম্পর্ক খুবই ভালো। কিন্তু একটা ছোট ঘটনা নিয়ে এত হইচই! ঢাকা-সিলেট রেললাইন অতি পুরোনো। এটা একেবারে পুরোনো। এজন্য সরকার ঢাকা-সিলেট রেললাইনকে ব্রডগেজ করার একটা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের ব্যয় বেশি বলে তা স্থগিত হয়ে আছে। রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, অনেক কারণে এই প্রকল্পের ব্যয় বেশি। এর মধ্যে রয়েছে—পাহাড়ের মধ্য দিয়ে রেলপথ যাবে বলে গার্ড ওয়াল দিতে হবে; সিলেট এলাকার নদীগুলো খরস্রোতা বলে রেলসেতুগুলো চওড়া ও মজবুত করে নির্মাণ করতে হবে; এছাড়া সিলেটে ট্রেনের ডিপো করতে হবে।’ মন্ত্রী মোমেন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে রেলের এই প্রকল্প ১৬ হাজার কোটি টাকার ছিল। ডিপোসহ বেশ কিছু বিষয় বাদ দিয়ে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব দিয়েছি।’ তখন রেলমন্ত্রী জানালেন, সিলেটে যেহেতু ট্রেন শেষ হবে, তাই ডিপো লাগবে।
সুনামগঞ্জের পাঁচ সংসদ সদস্যের পক্ষে রেলমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার দেওয়া প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি সুনামগঞ্জের আমার পাঁচ সাংসদ সহকর্মী আমার অফিসে আসেন। এ সময় তারা একটি আবেদনপত্র সঙ্গে আনেন। এতে তারা ঐ রেলপথ ছাতক পর্যন্ত নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তখন তারা আমাকে জানালেন, আমি যদি এ বিষয়ে রেলমন্ত্রীকে লিখি, তারা খুশি হবেন। আর আমি তো কানেক্টিভিটির বড় হোতা। কানেক্টিভিটি হলে তো ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে। কিন্তু ওখানে যে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি আছে, তা আমার জানা ছিল না।’
অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বলতে কী বোঝাতে চাইছেন জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সুনামগঞ্জের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বিষয়ে আমি কিছু জানতাম না। পরিকল্পনামন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা বলা উচিত ছিল। আমি তা করিনি। আমি খুব সরল মনে ডিও পাঠিয়ে দিয়েছি। আর এই ডিও বিতর্কের মূল কারণ।’ এ নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রীর অসন্তোষের প্রসঙ্গ টেনে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘তার সঙ্গে যে আমার দ্বন্দ্ব লেগে গেল, তাতে আমি তাজ্জব। এখানে যে তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি আছে তা জানতাম না। এজন্য আমি দুঃখিত। আমার সঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রীর দেখা হবে, এ বিষয়ে কথা বলব।’