পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, টিকার দেওয়ার নামে সবাই মুলা দেখাচ্ছে। বড় বড় পণ্ডিতরা টিকার বিষয়ে কত কি বলছে। জি-৭ দেশগুলো কিছুদিন আগে বৈঠক করে বলেছে তারা ১০০ কোটি ডোজ টিকা দরিদ্র দেশগুলোকে দেবে। এই নিয়ে শুধু গল্পই শুনছি। কিন্তু দেওয়ার জন্য কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছে না। গতকাল মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, গায়ক, ব্যবসায়ী—সবাই টিকার ব্যবসায়ী বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সবাই আমাদের কাছে বিক্রি করার জন্য আসছে। মন্ত্রী বলেন, একটা মজার ব্যাপার ঘটেছে। আমেরিকার অনেক ব্যক্তিবিশেষ আমাদের জানিয়েছেন যে, অমুক লোক অনেক টিকা দিতে পারবেন। তারা রাশিয়ান টিকার ডিলারশিপ পেয়েছে কিন্তু রাশিয়া সরকার আমাদের জানিয়েছে তাদের কোনো ডিলারই নেই।
তাহলে কীভাবে বাংলাদেশের টিকা সংকটের সমাধান হবে? জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে বড় সমাধান হবে যখন আমরা নিজেরা টিকা তৈরি করব। নিজেরা টিকা তৈরি করলে আর অন্যের দিকে চেয়ে থাকতে হবে না।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ধনী দেশগুলো টিকা নিয়ে বসে রয়েছে। তাদের যত জনসংখ্যা, তার থেকে তাদের কাছে টিকা বেশি রয়েছে। টিকা এখন দরকষাকষির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, অনেকে বলে যে দেব কিন্তু কেউ দেয় না। আবার দেওয়ার সময় জিজ্ঞাসা করে যে অমুক জিনিসে আমাকে সমর্থন দেবেন কি না। এখন দেখা যাচ্ছে, এটিকে একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে করোনা প্রতিরোধে ভ্যাকসিন সহায়তা দেবে বলে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনকে চিঠি দিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই তথ্য জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে অন্য ভ্যাকসিনের পাশাপাশি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনও সরবরাহ করবে—এমন আশা প্রকাশ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশগুলো প্রয়োজনের বেশি ভ্যাকসিন নিয়ে বসে আছে। সেজন্য তাদের বলেছি যে, বাড়তি ভ্যাকসিন নষ্ট না করে আমাদের দিয়ে সহযোগিতা করতে। মোমেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ২০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন আগেই চেয়েছি। আমরা আশাবাদী তারা আমাদের এই ভ্যাকসিন দেবে।