কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ গ্রহণ করুন

বাংলাদেশে কিশোরদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা দিনদিন বেড়েই চলেছে। গড়ে ওঠেছে কিশোর গ্যাং নামক চক্র। বর্তমানে কিশোর গ্যাং কালচার ভয়াভহ রূপ ধারণ করেছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে এখন কিশোর অপরাধের বেপরোয়া গতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। শহরের অলিগলি, চায়ের দোকান বা বিশেষ কিছু স্থানে অবস্থান নেয় কিশোর গ্যাং নামক চক্রের সদস্যরা। সাধারণত, মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য প্রতিটি গ্যাংয়ের একটি নিদিষ্ট নাম ও লোগো থাকে। গ্যাং সদস্যদের নাম ও লোগো শরীরে ট্যাটু করার পাশাপাশি দেয়ালেও লিখনের প্রবণতা দেখা যায়। তারা একসাথে দল বেঁধে নানান ধরনের অপরাধ করে থাকে। তার মধ্যে মোটরসাইকেল ছিনতাই, ইয়াবা পাচার, ধর্ষণ, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, খুচরা ইয়াবা বিক্রি ও সেবন, জিম্মি রেখে টাকা আদায় ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া, তাদের বিভিন্ন পার্ক, খোলা জায়গায়, ফুটপাতে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে একত্রিত হয়ে ভিডিও কনটেন্ট তৈরির নামে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি, ইভটিজিং, পথচারীদের গতিরোধ, বাইক মহড়াসহ বিভিন্ন অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে দেখা যায়। অন্যদিকে, স্কুলের সামনে ইভটিজিং করা, সন্ধ্যার পর উচ্ছৃঙ্খল আড্ডায় আর নেশায় মেতে উঠা, আবাসিক এলাকায় হৈ হুল্লোড় করা, মুরব্বিদের সঙ্গে বেয়াদবি করা যেনো তাদের নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা একটি নিদিষ্ট এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে এবং সর্বদা আধিপত্য ধরে রাখার চেষ্টা করে। ক্ষেত্রবিশেষে গ্যাংয়ের সদস্যদের মাঝে একই ধরনের জামাকাপড় পরার স্টাইল দেখা যায়। আবার কেউ কেউ জুয়েলারি ও অলঙ্কার পরে থাকে। তাছাড়া, আধিপত্য বিস্তারের জন্য তারা অস্ত্র যেমন-ছুরি, রামদা, হকিস্টিক, বন্দুক ইত্যাদি সংগ্রহে রাখে। কিশোর অপরাধ নির্মূলের জন্য দ্রুত পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। পুলিশী অভিযান ও টহল জোরদার করার পাশাপাশি পরিবারের অভিভাবকদেরও সচেতন করতে হবে। কিশোর গ্যাং কালচার নির্মূলে যদি এখনই পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয়, তাহলে তা ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করবে। ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে রক্ষা করার জন্য এখনই এর লাগাম টেনে ধরা দরকার।

মো. আশরাফুল ইসলাম, শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়