রোগাক্রান্ত গরুর সুস্থতার সার্টিফিকেট মেলে টাকায়

সিংগাইর পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও বাসস্ট্যান্ডে অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। টাকা দিলে গরু না দেখেও সার্টিফিকেট দেন পশু হাসপাতালের কর্মকর্তারা। ফলে কোনটি সুস্থ আর কোনটি অসুস্থ, তারা দেখেন না বলে জানিয়েছেন একাধিক কসাই। আবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের খবর পেয়ে সার্টিফিকেট দেওয়ার পর কর্তৃপক্ষ তা ছিঁড়ে ফেলেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। সবকিছু মিলিয়ে এলাকায় পশু জবাইয়ে আইন যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না বলে জানা গেছে। আর এভাবেই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অসুস্থ গরুর মাংস বিক্রি করার অপরাধে এক কসাইকে সাত দিনের জেল দিয়েছে ভ্রাম্যামাণ আদালত। আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনা লায়লা গত মঙ্গলবার এ রায় দেন। জানা গেছে, আয়নাল নামে এক কসাই গ্রাম থেকে একটি অসুস্থ ষাঢ় গরু কিনে সিংগাইর বাসস্ট্যান্ডে জবাই করে মাংস বিক্রি করছেন—এমন সংবাদের ভিত্তিত্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কসাইকে সাত দিনের কারাদণ্ড দিয়ে মাংস উদ্ধার করে মাটিচাপার নির্দেশ দেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও  পুলিশ এ কাজে সহযোগিতা করেন। তবে প্রাণিসম্পদ বিভাগের যিনি উক্ত কসাইকে গরু জবাইয়ের সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন, তিনিই আবার তা ছিঁড়ে ফেলেন বলে ভুক্তভোগী জানিয়েছেন।

 অভিযুক্ত আয়নাল কসাইয়ের ছেলে আরমান হোসেনের দাবি, তাঁর বাবাকে অন্যায়ভাবে জেল দেওয়া হয়েছে। কারণ গরু জবাইয়ের আগে পশু হাসপাতাল থেকে তাঁর বাবাকে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। সার্টিফিকেট দেওয়ার আগে ১০০ টাকা করে নিয়ে থাকেন। টাকা দিলে তারা গরু না দেখেও সার্টিফিকেট দিয়ে দেন। ঘটনার দিন যিনি সার্টিফিকেট দিয়েছেন, তিনিই আবার দোকানে এসে সার্টিফিকেটটি ছিঁড়ে ফেলেন এবং তার বাবাকে জেল দেওয়া হয়। গরু যদি অসুস্থ হয়, তাহলে তিনি সার্টিফিকেট দিলেন কেন এবং ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সার্টিফিকেট ছিঁড়লেনই-বা কেন? উপস্থিত সিংগাইর থানার এসআই শামিম বলেন, তিনিও না জেনে ঐ দোকান থেকে মাংস নেবেন বলে অর্ডারও দিয়েছিলেন। কিন্তু তার প্রশ্ন, প্রাণিসম্পদ বিভাগ গরু না দেখেই সার্টিফিকেট দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট আসার পর তা ছিঁড়ে ফেললেন কেন? যিনি টাকাও নেন, তার শাস্তি হওয়া দরকার।

টাকা নিয়ে সার্টিফিকেট দেওয়ার কথা স্বীকার করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. ফারুক আহাম্মদ বলেন, ‘যাতায়াত ও মোটরসাইকেলের তেল খরচ বাবদ টেকনিশিয়ানরা টাকা নিয়ে থাকেন। কারণ গ্রাম থেকে গরু তো আর এখানে আনা সম্ভব নয়। ভ্যাটেরিনারি সার্জন আছেন মাত্র এক জন। তাই আমরা টেকনিশিয়ান পাঠাই। তারা গরুর  সুস্থতা দেখে আমাকে অবহিত করার পরই আমার পক্ষ থেকে ওরা সার্টিফিকেট দেয়। এভাবে প্রতিনিয়ত চেক হয়। খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে, এটা অসুস্থ গরু। কিন্তু উল্লিখিত গরুর ক্ষেত্রে শুধু চেক দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট কসাইয়ের উদ্দেশ্য খারাপ ছিল বলেই গোপন করে অসুস্থ গরু জবাই করায় তাকে শাস্তি দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রতিদিন সব নিয়ম মেনেই সার্টিফিকেট দেওয়ার পর গরু জবাই করা হয়।’