চুয়াডাঙ্গায় এক দিনে ৯৩% শনাক্ত

২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৮৫ জনের মৃত্যু

নতুন করে সংক্রমণ বৃদ্ধির ধারায় দেশে এক দিনে আরও ৫ হাজার ৭২৭ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাস ধরা পড়েছে। যা একদিনের পরিসংখ্যানে গত আড়াই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে ১৩ এপ্রিল এক দিনে ৬ হাজার ২৮ জন নতুন রোগী শনাক্তের খবর এসেছিল। গত একদিনে করোনা ভাইরাসে মারা গেছেন আরো ৮৫ জন। এক দিনে ৮৫ জনের বেশি মৃত্যু বাংলাদেশকে দেখতে হয়েছিল দুই মাস আগে গত ২৯ এপ্রিল। সেদিন করোনায় ৮৮ জন মারা যান। এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় সর্বোচ্চ করোনা শনাক্ত হয়েছে সীমান্ত জেলা চুয়াডাঙ্গায়। যা প্রায় ৯৩ শতাংশ।

গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায়  দেশে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে এক হাজারের কাছাকাছি, সেই সঙ্গে বেড়েছে মৃত্যুও। মঙ্গলবার দেশে ৪ হাজার ৮৪৬ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মৃত্যু হয়েছিল ৭৬ জনের। শনাক্ত হওয়া নতুন রোগীদের মধ্যে ২০৬৪ জনই ঢাকা জেলার। আর খুলনা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে গত এক দিনে। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২০ দশমিক ২৭ শতাংশ।

এদিকে দেশে চলমান লকডাউন ও বিধিনিষেধ মানাতে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর হতে অনুরোধ জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।  গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য    অধিদফতরের ভার্চুয়াল বুলেটিনে অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন বলেন, ‘দেশে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ঢাকার চারপাশে কঠোর লকডাউন দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এক সপ্তাহের ব্যবধানে রংপুর বিভাগে ৮৬ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে প্রায় ৫০ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪২ শতাংশ, ঢাকা বিভাগে ১৪ শতাংশ, খুলনা বিভাগে প্রায় ৫০ শতাংশ ও ময়মনসিংহে প্রায় ৬২ শতাংশ সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু রাজশাহী বিভাগে সংক্রমণ বর্তমানে কিছুটা কম, প্রায় ১৩ শতাংশ। গত ১৪ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত করোনায় ৪৩০ জনের মৃত্যু হয়। তার মধ্যে খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ ১২০ জন, রাজশাহী বিভাগে ৯০ এবং ঢাকা বিভাগে ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৮৫ জনের মধ্যে পুরুষ ৫৫ জন আর নারী ৩০ জন। এর মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ৪৬ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরে বয়সী ১৮ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ১১ জন আর ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ১০ জন।

একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত চুয়াডাঙ্গায়

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮৯ জনে। এ সময় ৬৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৬৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৯২.৭৫ শতাংশ। যা গতকাল পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ শনাক্ত। এদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার উদ্বেগজনক হারে বাড়ায় চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকা, আলুকদিয়া ইউনিয়ন, দামুড়হুদা এবং জীবননগর উপজেলায় লকডাউন চলছে। বিধি-নিষেধের প্রথম দিন কিছুটা স্বাস্থ্যবিধি মানলেও গতকাল অনেকটা গা ছাড়াভাবে চলেছে মানুষ।

ঝিনাইদহে ৮ জনের মৃত্যু

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহে এক দিনে করোনা আক্রান্ত হয়ে ৮ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে জেলায় করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ৮০ জন। গ্রামে গ্রামে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে বলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম জানান, গতকাল বুধবার  ২২৭  জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তন্মধ্যে এক’শ ১৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার শতকরা  ৫২ ভাগ। জেলায় করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো  ৬৩৮  জনে।

যশোরে ৭ জনের মৃত্যু

যশোর অফিস জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় ৩৪৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১২১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে ২ জন মারা গেছেন। একইসাথে উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও ৫ জন। এরা সকলেই যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বুধবার শনাক্তের হার ৩৫ শতাংশ।