জমি নিবন্ধনে ঘুষ দিতে হলো ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে!

কুষ্টিয়ায় জমির নিবন্ধন করাতে গিয়ে ঘুষ দিতে হয়েছে এক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে। পরিচয় জানার পরও কুষ্টিয়া সদর সাবরেজিস্ট্রার অফিসের দুই কর্মচারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বি এম রফেলের কাছ থেকে আদায় করেছেন ১০ হাজার টাকা। অবশ্য এর আগে তার কাছে চাওয়া হয়েছিল ৩০ হাজার টাকা। পরে সেটি দফারফা হয় ১০ হাজার টাকায়। 

এ নিয়ে বি এম রফেল গত মঙ্গলবার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। ঐ স্ট্যাটাস থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বি এম রফেল জমি বন্ধক রেখে ব্যাংক লোন নিতে ইচ্ছুক। জমির দলিলের কাজ করাতে  গত মঙ্গলবার বিকালে কুষ্টিয়া সদর সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে যান। জমির বন্ধকী দলিল সম্পাদনের পর অফিসের করণিক মুকুল ও পিয়ন আক্কাস ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। এ সময় তিনি তার পরিচয় দেন এবং দাবি করা টাকার বিপরীতে রশিদ দাবি করেন। তার পরিচয় জানার পর ঐ দুই কর্মচারী টাকার পরিমাণ ৫ হাজার টাকা কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস ত্যাগের পর তার বড় ভাইয়ের কাছ থেকে ঐ দুই কর্মচারী ১০ হাজার টাকা আদায় করেন। ঘটনার পরপরই গত মঙ্গলবার        সন্ধ্যায় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বি এম রফেল এ নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। এতে তিনি লেখেন, ‘এসেছিলাম কুষ্টিয়া সাবরেজিস্ট্রার অফিসে জমি রেজিস্ট্রি করতে। এসে দেখলাম, ঘুষবাণিজ্য কাকে বলে। করণিক মুকুল ও পিয়ন আক্কাস প্রকাশ্যে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ চায়। নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও ন্যূনতম সম্মান না দেখিয়ে এটা এখানকার নিয়ম বলে তারা দাবি করেন। পরে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে কাজটি শেষ করলাম। দেখার কেউ নেই।’

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বি এম রফেলের বাড়ি কুষ্টিয়া সদর উপজেলায়।

এদিকে, ফেসবুকে ঘুষবাণিজ্যের বিষয়টি উঠে আসায় সাবরেজিস্ট্রার অফিসে তোলপাড় শুরু হয়। টাকা ফেরতসহ বিষয়টি মিটমাট করতে সাবরেজিস্ট্রার অফিসের কর্মকর্তারা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা হালে পানি পাননি।

উল্লেখ্য, কুষ্টিয়া সদরসহ জেলার সব সাবরেজিস্ট্রার অফিসের দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে সাধারণ মানুষ জিম্মি। সরকার নির্ধারিত ফি ছাড়াও দলিলপ্রতি অতিরিক্ত টাকা আদায়ে বাধ্য করা হয়। এর আগে ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি কুষ্টিয়া সদরের সাবরেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহ ও অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম ঘুষের ১ লাখ ৪ হাজার ৪০০ টাকাসহ দুদকের অভিযানে হাতেনাতে ধরা পড়েন। ঐ মামলা এখনো চলছে। জামিনে মুক্তি পেলে সুব্রত কুমার সিংহ ফের আগের পদে বহাল থাকেন। দুর্নীতিবাজদের শাস্তি না হওয়ায় ঐ সিন্ডিকেট হয়ে উঠেছে অপ্রতিরোধ্য। 

কুষ্টিয়া সদর সাবরেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহ জানান, ‘বি এম রফেল আমার দপ্তরে এসেছিলেন জমির নিবন্ধন করাতে। আমি দ্রুত উনার জমি নিবন্ধন করে দিই।’ দুই কর্মচারীর ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি তিনি জানেন না বলে দাবি করেন। কুষ্টিয়া জেলা রেজিস্ট্রার প্রভাকর সাহা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবগত। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।