রাষ্ট্রহীন বা নির্যাতনের শিকার হয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে বিতাড়িত মানুষের অধিকার সুরক্ষায় বিদ্যমান আইনের সু্স্পষ্ট ব্যাখ্যাসহ সংস্কার প্রয়োজন বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ও রিফিউজি সলিডারিটি নেটওয়ার্ক (আরএসএন)-এর যৌথভাবে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। সম্প্রতি ‘আশ্রয় ছাড়িয়ে :বাংলাদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আইনগত সুরক্ষা’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে এই প্রতিবেদন।
এ উপলক্ষ্যে ব্লাস্টের মুখ্য আইন উপদেষ্টা ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. নিজামুল হকের সভাপতিত্বে অনলাইন আলোচনাসভায় অংশ নেন জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার পরিচালক, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. সাইফুল ইসলাম, ব্লাস্টের ভাইস চেয়ারপারসন ড. সামসুল বারী, নির্বাহী পরিচালক, রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের নির্বাহী পরিচালক ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা, ব্লাস্টের অনারারি নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন, জাস্টিস ইনিশিয়েটিভের নির্বাহী পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম, আরএসএনের নির্বাহী পরিচালক জায়েদ হায়দারী, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক কাজী ওমর ফয়সাল, আইনজীবী রাজিয়া সুলতানা ও আইনজীবী কামরুন নাহার।
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের সাময়িকভাবে আশ্রয় দিয়েছে। এই সময়ে তাদের জন্য যতটুকু করার, সেটা বাংলাদেশ করবে, করছে। কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে রোহিঙ্গাদের নিজের দেশ মিয়ানমারেই ফিরে যেতে হবে। নিজের দেশেই তাদের প্রাপ্য সব অধিকার নিয়ে বসবাসের সুযোগ দিতে হবে। এটাই নায্য, এটাই তাদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
গবেষণা প্রতিবেদনে বর্তমানে বাংলাদেশে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা প্রদানে বাংলাদেশের সংবিধান এবং আইনগত সহায়তা প্রদানসহ অন্যান্য আইন কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ তা বিশ্নেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় বাংলাদেশে বিদ্যমান বিভিন্ন আইন যেমন অভিবাসন আইন, পরিবারিক আইন, অপরাধমূলক আইনসহ অন্যান্য আইনের প্রয়োগযোগ্যতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্যসেবা-বিষয়ক অধিকার নিয়েও প্রতিবেদনে আলোচনা করা হয়।
বলা হয়, এ গবেষণা প্রতিবেদনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশে বিদ্যমান বিভিন্ন আইন, নীতিমালা সম্পর্কে সচেতনতা ও জ্ঞান বৃদ্ধি করা এবং একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের অধিকার সুরক্ষায় যেসব ব্যক্তি বা সংস্থা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে তাদের সহায়তা করা। প্রতিবেদনটি খুব শিগিগর বই আকারে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় পাওয়া যাবে বলে জানানো হয় উক্ত অনুষ্ঠানে।