শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের মধ্যটিকরিয়া এলাকায় সড়কের কালভার্ট ভেঙে গিয়ে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ফলে ইউনিয়নের রামনগর, টিকরিয়া, উত্তর টিকরিয়া, মধ্যটিকরিয়া, ফটকী, আশিদ্রোন, কপালীপাড়াসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের হাজার হাজার জনসাধারণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিপজ্জনক কালভার্টের বিশাল গর্তে ছোট-বড় নানা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কালভার্টটির পাটাতনের অর্ধেক অংশের ঢালাই ধসে গিয়ে শুধু রডগুলো ভেসে উঠেছে। দেখা দিয়েছে বিশাল গর্ত। বাকি যেটুকু আছে তাও যে কোনো মুহূর্তেই ভেঙে পড়ার আশঙ্কা বিরাজ করছে। তবু এখানে নেই কোনো বিপজ্জনক চিহ্ন বা প্রতিবন্ধকতা। কালভার্টটি সড়ক থেকে একটু উঁচুতে হওয়ার কারণে দ্রুতগামী যে কোনো যানবাহনকে সহসাই গর্তের মুখে এসে দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বিপজ্জনক এই কালভার্টের কারণে জরুরি সেবা অ্যাম্বুলেন্স কিংবা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি গ্রামের ভেতরে প্রবেশে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মধ্যটিকরিয়া সড়কে চলাচলরত অটোরিকশাচালক সুজিত কপালী জানান, এছাড়া হাটবাজারে কৃষিপণ্য সরবরাহ করা, হাসপাতালে রোগী নিয়ে যাতায়াত কিংবা অন্য কাজে শহরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে প্রতিদিন এই রাস্তায় কয়েকশ অটোরিকশা ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীসহ আসা-যাওয়া করে। বিশেষ করে রাতের বেলায় এই কালভার্টের ওপর দিয়ে যাতায়াতকালে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
স্থানীয় সত্যেন্দ্র কপালী, সমীর চক্রবর্ত্তী, শাকির আহমেদ, রাহুল দেবনাথ প্রমুখ ব্যক্তি জানান, ২০-২৫ বছর আগে কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সম্প্রতি এক বছর আগে প্রায় এক কিলোমিটারের এই সড়কটি পাকা করা হয়। ঐ সময় কালভার্টটির ওপর দিয়ে মালবাহী ভারী যানবাহন চলাচলের ফলে ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে। এ ব্যাপারে প্রাণঘাতী কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই এখানে একটি নতুন কালভার্ট মেরামতের দাবি করেন স্থানীয়রা।
আশিদ্রোন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রণেন্দ্র প্রসাদ বর্ধন (জহর) বলেন, ‘কালভার্টটি সংস্কারের জন্য উপজেলা এলজিইডির মাধ্যমে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। খুব দ্রুত কালভার্টটি সংস্কার করা হবে।’
শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আশিদ্রোন ইউনিয়নের মধ্যটিকরিয়া এলাকার কালভার্ট সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। বিষয়টি ঢাকা থেকে অনুমোদন হয়ে আসার পর কাজের টেন্ডার দেওয়া হবে।’