নীরব চন্দন
শীতকাল চলছে। সাধারণত শীতে বিয়ের ধুম পড়ে যায়। সালমান সাহেব এবার কঠিন একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন। যে করেই হোক এবার শীতে তার একমাত্র মেয়ের বিয়ে দিবেন তিনি। কিন্তু যোগ্য পাত্র পাওয়া তো সহজ ব্যাপার নয়। এ নিয়ে চিন্তার সাগরে ডুব দিলেন তিনি। অবশেষে একটা আইডিয়াও পেয়ে গেলেন। তা হলো মনোনয়ন পদ্ধতি। জাতীয় নির্বাচনের জন্য যে পদ্ধতিতে দলগুলো প্রার্থী মনোনয়ন দেয়, ঠিক সেই পদ্ধতিতেই তিনি জামাই মনোনয়ন দিবেন। মনোনয়ন পদ্ধতিতেই যোগ্য জামাই পাওয়া যাবে, বিশ্বাস করেন তিনি। তা ছাড়া মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেও বাড়তি টাকা আয় করা যাবে; যা দিয়েই মেয়ের বিয়ের কাজটা সেরে ফেলা যাবে। অনেক ভেবে চিন্তে সালমান সাহেব একটা মনোনয়ন ফরম তৈরি করলেন এবং মনোনয়ন ফরমের ফি নির্ধারণ করলেন পঁচিশ হাজার টাকা। তিনি মনে করেন, যে ব্যক্তি পঁচিশ হাজার টাকা দিয়ে ফরম কিনতে পারবে না, সে কীভাবে তার মেয়ের ভরণ-পোষণ করবে? কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, তার এই পরিকল্পনার জন্য ব্যাপক আকারে প্রচারণা দরকার। তাই তিনি সারা এলাকায় মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করলেন। তার এমন ঘোষণা শুনে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হলো। কেউ কেউ তো তাকে নিয়ে প্রচণ্ড ঠাট্টা-তামাশায় মেতে উঠলেন। কিন্তু সালমান সাহেব দমে যাওয়ার পাত্র নন। তিনি প্রতিদিন বাড়ির আঙ্গিনায় একটা চেয়ার-টেবিলে বসে মনোনয়ন ফরম নিয়ে প্রার্থীর অপেক্ষায় থাকেন। কিন্তু একি? একদিন যায়, দুদিন যায়, সপ্তাহ যায় কিন্তু কোনো প্রার্থী আসে না। এভাবে একমাস কেটে গেল কিন্তু কোনো প্রার্থী সালমান সাহেবের বাড়ির ত্রি-সীমানায় এলো না। সালমান সাহেব একেবারেই ভেঙে পড়লেন। মাথাটা প্রচণ্ড ব্যথা করছে তার। তিনি একদৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলেন। আর মনে মনে কী যেন ভাবতে লাগলেন। এমন সময় তার একমাত্র মেয়ে সোনালীর ডাকে ধ্যান ভাঙল তার। তিনি মেয়ের দিকে তাকিয়েই ‘থ’ বনে গেলেন। তার মেয়ের সাথে বর সাজা এলাকার দুষ্টু প্রকৃতির রায়হানকে দেখে তিনি আরও চমকে গেলেন। তিনি কিছু বলার আগেই তার মেয়ে সোনালি বলে উঠল, ‘বাবা, তুমি যে পদ্ধতিতে আমার বিয়ে দিবে ভেবেছ, সে পদ্ধতিতে আগামী কয়েকটা শীতকালেও আমার বিয়ে হবে না। কিন্তু আমি আর কোনো শীত মিস করতে চাই না। তাই নিজেই বিয়েটা করে ফেললাম।’ সালমান সাহেব তেমন কিছুই বললেন না। শুধু চিত্কার করে বললেন, ‘বিয়ে করবি, কর। তাই বলে আমার বিরোধী দলের সদস্যকে বিয়ে করবি?’
খিলক্ষেত, ঢাকা।