ইউরোতে এবার ‘এফ’ গ্রুপের খেলাটাই সবচেয়ে বেশি রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে। এই গ্রুপে এমন তিন দল ছিল যারা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য মাঠে নেমেছিল। বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স, ইউরোর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল, ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন জার্মানি এবং অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল হাঙ্গেরিকে নিয়ে ছিল এফ গ্রুপ। ধারণা ছিল হাঙ্গেরি বাদ পড়বে। শেষ পর্যন্ত হয়েছেও তাই।
বুধবার রাতে পর্তুগাল ফ্রান্সের লড়াই ইউরোর অলিখিত ফাইনাল দেখেছে দর্শক। ফ্রান্স পর্তুগাল ম্যাচটা ২-২ গোলে টান টান উত্তেজনা ছিল পরতে পরতে। ছিল রোমাঞ্চ। দুই চ্যাম্পিয়নের লড়াই শুরুর বাঁশি হতে শেষ বাঁশি পর্যন্ত উত্তেজনার পারদ ছড়িয়েছে। ফরাসি ফুটবলার এমবাপে গ্রিজম্যান, বেঞ্জামাম, পর্তুগালের বার্নাদো সিলভা, রাফায়েল গুইয়েরা, পেপে, রোনালদের শৈল্পিক ফুটবল ছোঁয়া মুগ্ধ করেছে।
হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের পুসকাস স্টেডিয়ামের এই মাঠে বল দখলে কেউ কারো চেয়ে কম ছিল না। প্রায় ৫৫ হাজার দর্শক উত্তেজনায় ভেসেছিল। অনেক ঘটনার ম্যাচ দেখার সুযোগ হয়েছে টিভির দর্শকের। ম্যাচে পেনাল্টি হয়েছে তিনবার। রোনালদো ইতিহাসের পাতায় উঠে এসেছেন। ফ্রান্সের বিপক্ষে রোনালদোর প্রথম গোল। বেঞ্জামা ছয় বছর দলে যোগ দিয়ে গোল পেলেন। নানা ঘটনায় মোড়ানো ফ্রান্স-পর্তুগালের লড়াই একের পর এক মুগ্ধতাই দিয়েছে দর্শকদের।
জার্মানি হাঙ্গেরির ম্যাচটা ড্র হওয়ায় পর্তুগালের শেষ ষোলয় যাওয়াটা নিশ্চিত হয়ে যায়। সেরা তৃতীয় দল হিসেবে ইউরোর বর্তমা চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল ইংল্যান্ড যাওয়ার টিকিট পেয়েছে।
এই ম্যাচেও রোনালদোর গোলে এগিয়ে ছিল পর্তুগাল। ৩০ মিনিটে পেনাল্টিতে রোনালদো গোল করেন ১-০। অসাধারণ বুদ্ধিদীপ্ত শট। ফ্রান্সের গোলকিপার লরিস যেন রোনালদোর সঙ্গে আই কন্টাক্ট করতে না পারে সে জন্য রোনালদো বলটা বসিয়ে গ্যালারির দিকে তাকিয়ে ছিলেন। এদিক-ওদিক তাকিয়ে শট করলেন। গোলকিপার বাম দিকে ঝাঁপাল আর রোনালদোর শট জালে ঢুকল ডান দিক দিয়ে। ফ্রান্সের বিপক্ষে ক্যারিয়ারে প্রথম গোলের ইতিহাস গড়লেন সিআরসেভেন। প্রথামার্ধের ইনজুরি টাইমেই ফ্রান্সের স্ট্রাইকার করিম বেঞ্জামা পেনাল্টি হতে গোল করলেন ১-১। হতাশ চেহারায় দূর থেকে দেখলেন রোনালদো। ২০১৫ সালের পর ফ্রান্সের জার্সিতে পিএসজি তারকা বেঞ্জামা গোল করলেন। জাতীয় দলে তাকে নেওয়া হচ্ছি না। হিসাব করলে বেঞ্জামা ২ হাজার ৮৫ দিনে ফ্রান্সের জার্সি গায়ে গোলের দেখা পেলেন। ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম তখন বেঞ্জামাদের দিকে তাকিয়ে খেলার গতি কামিয়ে আনতে ইশারা দিচ্ছিলেন।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই পর্তুগালের জালে ফ্রান্সের বল। এবার সেই করিম বেঞ্জামা। পলপগবার অসাধারণ থ্রু বলটা পেয়ে বেঞ্জামা অফসাইড ভেদ করে ঢুকে পড়লেন গোল করলেন। কিন্তু রেফারি ভিডিও অ্যাসিসটেনসের সঙ্গে কথা বলে গোলের নির্দেশ দিলে বেঞ্জামা, পগবা, এমবাপে, গ্রিজম্যানরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। সেই সঙ্গে রেকর্ড হয়ে গেল বেঞ্জামার। ফ্রান্সের বেশি বয়সের কোনো খেলোয়াড় বিশ্বকাপ এবং ইউরোতে একের বেশি গোল করলেন বেঞ্জামা। তার আগে জিদানের হাতে ছিল এই রেকর্ডটি।
গোল শোধ করে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া পর্তুগালের রোনালদো। ফ্রান্সের বক্সে ঢুকে বল ক্রস করলে ফরাসি ডিফেন্ডারের হাতে লেগে পেনাল্টি হয়। এবার আসে সেই মোক্ষম সময়। স্পটকিকে বল বসিয়ে আবার রোনালদো ফ্রান্সের গোলকিপারকে ফাঁকি দিতে এদিক-ওদিক তাকিয়ে আবার সেই একই ভঙ্গিমায় গোলকিপারকে বাম পাশে ছুঁড়ে ফেলে ডান দিকে দিয়ে গোল করেন ২-২। সঙ্গে সঙ্গে সেই কাঙ্ক্ষিত ল্যান্ডমার্ক স্পর্শ করেন সিআরসেভেন। ১০৯ গোল পুর্ন হয় রোনালদোর। ইরানের বিখ্যাত ফুটবলার আলি দায়ি ১০৯ গোল এতে সর্বোচ্চ আসনে বসেছিলেন। বুধবার রাতে এশিয়ার আলি দায়িকে স্পর্শ করলেন ইউরোপের রোনালদো। আর এক গোল করলে আলি দায়িকে ছাড়িয়ে যাওয়ার রেকর্ড মাথায় তুলবেন সিআরসেভেন।
অল টাইম টপ স্কোরার
আলি দায়ি (ইরান) ১০৯
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল) ১০৯
মোখতার দাহারি (মালয়েশিয়া) ৮৯
ফ্রেঞ্চ পুসকাস (হন্ডুরাস) ৮৪
গদফ্রে চিতালু (জাম্বিয়া) ৭৯