এদেশে চরিত্রের দৈর্ঘ্য মেপে নয়, বরং ভিন্নধর্মী অনুল্লেখ্য চরিত্রকে দর্শক মুগ্ধ করে রাখেন কোনো কোনো দক্ষ অভিনেতা। শাহেদ আলী তাদের একজন। কাজ করছেন সিনেমা, নাটক, ওয়েব সিরিজ, বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে নানা ব্যঞ্জনায়। প্রচারের আলো হয়তো তার দিকে কম। কিন্তু একজন চারণ শিল্পী হিসেবে দর্শকদের মনে জমি কিনে ফেলেছেন তিনি, যার মালিকানা থাকবে অনেকদিন। এই গুণী অভিনেতা কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে।
সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল
বর্তমান কাজের ব্যস্ততা প্রসঙ্গে জানতে চাই—
‘মায়ের ডাকে’, ‘পুনর্জন্ম’সহ বেশ কয়েকটি ঈদের নাটকের কাজ করছি। পাশাপাশি ‘মহানগর’, ‘প্যারানাইকোলজি’ ও ‘অমানুষ’ নামের দুটি ওয়েব সিরিজ করলাম। শিগগিরই প্রচার শুরু হবে ‘এখানে কেউ থাকে না’ ও ‘জিন্দা বাহার’ নাটক দুটি। এছাড়া ‘অমানুষ’ ও ‘অন্ত্যষ্টিক্রিয়া’ ছবি দুটির কাজ চলছে এবং আগামীকাল নবাব এলএলবি ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে।
মঞ্চ নাটকের অবস্থা দিনদিন খারাপ হচ্ছে। একজন মঞ্চকর্মী হিসেবে এ নিয়ে কী মন্তব্য করবেন?
কারোনাকালে তো জীবন বাঁচানোই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন মঞ্চের অনেক প্রফেশনাল কর্মী ভিন্ন পেশায় জীবন চালাচ্ছেন। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মঞ্চও সচল হবে।
এমন অবস্থা দেখে নতুনরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে কি-না!
না, আমার মনে হয় আগ্রহ কমবে না। কারণ যারা মঞ্চে যারা কাজ করতে আসেন তারা একটু ভিন্ন মানসিকতার হন।
নাটক নির্মাণ যেমন বেড়েছে তেমনি মানহীন পাল্লাও ভারি হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে কী বলবেন?
মান কমেনি। এখন নির্ধারিত বাজেটের মধ্যে অনেক ভালো কাজ হচ্ছে। কাজ ভালো না হলে বিশ্বয়াণের এই যুগে নাটক দর্শকরা দেখতেন না। তবে কাজ বেশি হলে কিছু মানহীন কাজ হবেই।
অসংখ্য নাটক নির্মিত হলেও আগের মতো প্রভাব না ফেলার কারণ কী বলে মনে করেন?
আগে যে পরিমাণ নাটক হতো তার মধ্যে ক’টি নাটককে আমরা মনে রেখেছি? এখনো কিন্তু বিষয়টি তেমনই হচ্ছে। কোয়ালিটিসম্পন্ন নাটকের প্রশংসা সবাই করবে এবং মনে রাখবে। কোয়ালিটি না দিয়ে সংখ্যা বাড়ালে তো হবে না।
নাটকে চরিত্র সংকট ভালো একটি গল্প তুলে ধরার ক্ষেত্রে অন্তরায় বলে মনে করেন না?
গল্পের প্রয়োজনে চরিত্র আসা, না আসাটা নির্ভর করে। গল্প যদি ২/৩ জনকে কেন্দ্র করে হয় তবে সেখানে অপ্রয়োজনে পার্শ্বচরিত্র ভিড় করার মানে হয় না। তবে জোর করে চরিত্র বাদ দেওয়া হলে সেটা দুঃখজনক।
ভিউ গুণে স্টার ও নাটকের মান নির্ধারণের চর্চাকে কীভাবে দেখেন?
এটা অবশ্যই ভালো একটি চর্চা। কারণ একটা সময় বিচার করার জায়গা না থাকায় অনেকেই নিজেকে স্টার দাবি করতেন। কিন্তু এখন কাউন্ট করার একটা ব্যবস্থা আছে। এখন ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার সুযোগ নেই।
ওটিটি মাধ্যমটিকে কতটা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন?
গল্পের বৈচিত্র্যতা নিয়ে কাজ করলে নিশ্চয় ওটিটি ইতিবাচক হবে আমাদের জন্য। তবে একই ধরনের থ্রিলার, পরোকীয়া নিয়ে কাজ করলে দর্শক মুখ ফিরিয়ে নেবে। আমাদের বিভিন্ন গল্প আছে, সেগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে।
কিন্তু শুরুতেই তো নেতিবাচক আলোচনায় এসেছে মাধ্যমটি...
যার কোনো কোয়ালিটি নেই তাহলে তো সে সুরসুরি দিয়েই আকৃষ্ট করার চেষ্টা করবে। কিন্তু আপনার যদি গল্প ও নির্মাণ ভালো হয় তাহলে দর্শক এমনি গ্রহণ করবে। আর গল্পের প্রয়োজনে খোলামেলা কিছু থাকতেই পারে, কিন্তু ওটিটির জন্য খোলামেলা দৃশ্য কাম্য নয়।
সংকটের ভেতর দিয়ে চলা চলচ্চিত্র কী আদৌ সিনেমা হলে গড়াবে? এর ভবিষ্যত্ কী?
এখন তো করোনার কারণে সব দেশেই চলচ্চিত্রের অবস্থা খারাপ। বর্তমান প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্রের অবস্থা অনিশ্চিত। তবে আশার কথা ধীরে ধীরে হলগুলো খুলছে। আমার দেশের প্রেক্ষাপটও ইনশাল্লাহ চেঞ্জ হবে।