ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য আরো প্রণোদনা প্যাকেজ প্রয়োজন

দেশে করোনার প্রথম ধাক্কা কাটাতে যে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছিল সেখান থেকে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো উপকৃত হলেও তুলনামূলক কম সুবিধা পেয়েছে ছোট উদ্যোক্তারা। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য আরেকটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা প্রয়োজন। বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড) আয়োজিত সংলাপে বক্তারা এ কথা বলেন।

‘করোনাকালে প্রণোদনার সঙ্গে কর্মসংস্থান, ভোগ এবং বিনিয়োগের সম্পর্ক :বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা, বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তী ধাপের সহায়তা’ শীর্ষক সংলাপের আয়োজন করে বিল্ড। ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আয়োজিত এই সংলাপ সঞ্চালনা করেন মেট্রোপলিটান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এমসিসিআই) প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার নীহাদ কবির। প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট জসিম উদ্দিন এবং আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পোটিআইনেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ।

সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের চিত্র তুলে ধরে সংলাপে জানানো হয়, বড় উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের যে তহবিল ছিল সেটি থেকে উপকার পেয়েছে ৫৫ লাখের বেশি বিনিয়োগকারী। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য ঘোষিত প্রণোদনার ৭৩ শতাংশ অর্থ বিতরণ হয়েছে। কৃষি খাতে ঘোষিত প্রণোদনার ৮০ ভাগ বিতরণ হয়েছে। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এম মান্নান বলেন, সময়মতো প্রণোদনা ঘোষণা করার ফলে দেশের অর্থনীতিতে তেমন ঝুঁকি তৈরি হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তায় আরো সচেষ্ট হতে হবে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করে যাচ্ছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, করোনার সময়ে বিভিন্ন দেশ নগদ সহায়তা দিয়েছে যেটি অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে বেশি কার্যকর হয়েছে। দেশে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য আরেকটি প্রণোদনা দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, করোনার ক্ষতি কাটাতে ব্যবসায়ীদের ঋণ পরিশোধে আরো সময় প্রয়োজন। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ঋণ পরিশোধে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছে।

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম বলেন, সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রথমে ‘সাপোর্ট ম্যাপিং সিস্টেম’ দাঁড় করাতে হবে। অনেক ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তা ঋণ পায়নি। এজন্য ঋণ প্রদানের কৌশলও পরিবর্তন করতে হবে।

উইমেন এন্ট্রাপ্রিনিওয়ার্স নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (ওয়েন্ড) সভাপতি নাদিয়া বিনতে আমিন অভিযোগ করে বলেন, সরকারিভাবে বলা হচ্ছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ৭০ ভাগ ঋণ বিতরণ হয়ে গেছে। অথচ আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের কোনো উদ্যোক্তা এই ঋণ পায়নি।