দেশে নির্মিতব্য পাঁচটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রকে গ্যাসচালিত কেন্দ্রে পরিবর্তন করতে যাচ্ছে সরকার। আমদানিপণ্য তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসকে (এলএনজি) স্বাভাবিক গ্যাসে রূপান্তর করে এ বিদ্যুেকন্দ্রগুলো পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে আরো পাঁচটি কয়লা বিদ্যুত্ প্রকল্প বাতিল করার পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বিদ্যুত্ বিভাগ সূত্র জানায়, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রের গৃহীত সব প্রকল্প পুনর্মূল্যায়নশেষে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ের পরামর্শক্রমে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে সরকার। শিগিগরই এ বিষয়ে আদেশ-বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।
এলএনজিতে রূপান্তরিত হতে যাওয়া পাঁচটি বিদ্যুেকন্দ্রের উত্পাদন ক্ষমতা ৫ হাজার ১৭৫ মেগাওয়াট। অন্যদিকে বাতিল হতে যাওয়া পাঁচটি কেন্দ্রের উত্পাদন ক্ষমতা ৪ হাজার ১৭১ মেগাওয়াট।
এলএনজিতে রূপান্তর করার জন্য প্রস্তাবিত কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে—রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মহেশখালী ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র এবং সরকারি সংস্থা আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির পটুয়াখালী ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কেন্দ্র। অন্য তিনটি হলো— সিপিজিসিবিএল-সুমিতমো করপোরেশনের ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের ও সিপিজিসিবিএলের বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র এবং মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ওরিয়নের ৬৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র।
বাতিল হতে যাওয়া কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে— মাতারবাড়িতে দ্বিতীয় পর্যায়ে গৃহীত সিপিজিসিবিএলের ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র, আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির উত্তরবঙ্গ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট কেন্দ্র, ওরিয়নের মাওয়া ৫২২ মেগাওয়াট কেন্দ্র ও ঢাকা ২৮২ মেগাওয়াট কেন্দ্র এবং পিডিবি-টিএনবি মালয়েশিয়ার ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র।
বিদ্যুত্ বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, দেশে বিদ্যুতের ভবিষ্যত্ চাহিদা ও উত্পাদনের পূর্বাভাস এবং কয়লা ব্যবহারে পরিবেশের ক্ষতি ও আমদানি-সংরক্ষণ পরিবহন জটিলতার কারণে এমন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।