দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদুল হাসানের বিরুদ্ধে উপজেলার ৪৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উন্নয়ন কাজ না করেই ৩০ লাখ টাকার ভুয়া বিল-ভাউচার দাখিলের অভিযোগ উঠেছে। চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রতিটি স্কুলের অনুকূলে বিভিন্ন খাতে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার এই অনিয়ম তুলে ধরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী, সচিব, জেলা প্রশাসক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার কাকড়াপালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছাতনী-রাউতারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাট্টাউছনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টুব্বি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের অনুকূলে বরাদ্দ পাওয়া টাকায় কোনো কাজ করা হয়নি। কাজ না করেই টাকা উত্তোলনের জন্য উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে বিল-ভাউচার দাখিল করা হয়েছে।
উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসার শফিকুর রহমান বলেন, এরই মধ্যে উপজেলার ৪৬টি স্কুলের ৩০ লাখ টাকার মতো বিল-ভাউচারের কপি আমাদের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। বাংলাহিলি ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি লিমা আকতার এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়ে বলেছেন, তার স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া বিল-ভাউচার জমা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরী জানান, কাজ না করে বিল উত্তোলনের কোনো নিয়ম নেই। এ বিষয়ে কেউ যদি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সেক্ষেত্রে তদন্তপূর্বক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এখানে শুধু যে উপজেলা শিক্ষা অফিসার একা দায়ী, তা নয়। অন্যরা কাজ না করে কেন বিল-ভাউচার দাখিল করল সেই বিষয়গুলোও দেখা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নূর এ আলম বলেন, আমাদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সংস্কার বা অন্যান্য বরাদ্দে অনিয়মের বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। যে পদ্ধতিতে বরাদ্দকৃত অর্থ খরচ করার কথা, সেই পদ্ধতিতে খরচ করা হয়নি। বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির অনুমোদন ছাড়াই তাদের স্বাক্ষর জাল করে কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি হারুন উর রশিদ বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাসুদুল হাসানের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি লিখিত অভিযোগ বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিদের কাছ থেকে পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা কমিটির বৈঠকে আলোচনা করে অভিযোগ যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে বিধি মোতাবেক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।