যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মিয়ামিতে একটি ১২ তলা আবাসিক ভবন ধসে পড়ার ঘটনায় অন্তত চার জন নিহত এবং ১৫৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা। মিয়ামি-ডাডের মেয়র ড্যানিয়েল লেভিন-কাভা জানিয়েছেন, এখনো ১৫৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। মারা গেছে চার জন। ভবন ধসের কারণ জানা যায়নি। ধসের ঘটনাকে কেউ কেউ টুইন টাওয়ারে নাইন ইলেভেন হামলার সঙ্গেও তুলনা করেছেন। খবর বিবিসি ও সিএনএনের
মেয়র বৃহস্পতিবার জানিয়েছিলেন, ভবনটিতে যারা অবস্থান করছিলেন সেই সংখ্যা তাদের হিসাব মতে ১০২ জন এবং ৯৯ জনের খোঁজ মেলেনি। তবে গতকাল ভবনটিতে থাকা মানুষের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি বলে মেয়র জানান। তিনি চার জনের মৃত্যুর কথা জানান। ভবনটি ধসে পড়ায় ঐ কমপ্লেক্সের ১৩৬টি ইউনিটের ৫৫টি অ্যাপার্টমেন্ট তছনছ হয়ে গেছে। তবে ভবন ধসের কারণ জানা যায়নি। সার্ফসাইড শহরে এই ভবনটি নির্মাণ হয়েছিল ১৯৮০ সালে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ল্যাটিন আমেরিকান অভিবাসী আছেন বলে ঐ দেশগুলোর কনস্যুলেট থেকে জানানো হয়েছে। প্যারাগুয়ের ফার্স্ট লেডির এক স্বজনও নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন বলে প্যারাগুয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। উদ্ধারকারীরা ফার্স্টলেডি সিলভানা লোপেজ মোরেইরার বোন, বোনের স্বামী, তাদের তিন সন্তান ও গৃহকর্মী কারো সঙ্গেই যোগাযোগ করতে পারছেন না। উদ্ধারকারীরা ৩৫ জনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে টেনে তুলেছে বলে, কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ১০ জনকে পর্যবেক্ষণ ও চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুই জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
উদ্ধারকারী ও তল্লাশি দলগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া একটি পার্কিং গ্যারেজ থেকে উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কারণ তারা ধ্বংসাবশেষের নিচে বেঁচে থাকা মানুষের সন্ধান পেয়েছেন। তল্লাশি চলাকালীন একটি ছোট অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে ২০ মিনিটের মধ্যেই তা নিভে যায় বলে জানান মিয়ামি-ডাডের দমকল বাহিনীর প্রধান রাইডে জাদাল্লাহ। তিনি আরো জানান যে, ধ্বংসস্তূপর নিচে কোথাও কেউ আছে কি না, সেটা অনুসন্ধানের জন্য তারা সোনার যন্ত্র, অনুসন্ধানী ক্যামেরা পাশাপাশি বিশেষত প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করছেন। তবে ধ্বংসস্তূপ যে কোনো সময় সরে গিয়ে আরেকটি ধসের আশঙ্কা থাকায় উদ্ধারকাজের এই পদ্ধতি বেশ ধীরে এবং নিয়ম মেনে করা হচ্ছে। সার্ফসাইডের মেয়র চার্লস বারকেট এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভবনের পেছনের দিকে, এক- তৃতীয়াংশ বা তারও বেশি অংশ সম্পূর্ণ লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন যে, তিনি অপেক্ষা করছেন যে কখন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হবে। বাইডেন বলেন, আমি ফ্লোরিডার জনগণকে বলছি, কেন্দ্রীয় সরকার দিতে পারে এমন সব সহায়তা আপনারা চাইতে পারেন, আমরা অপেক্ষা করছি, কেবল আমাদের জানান। আমরা সেখানে থাকব।
‘৯/১১-এর মতো দেখে মনে হয়েছিল’
স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, তিনি ভবনটি ধসে পড়ার শব্দ শুনতে পান। তিনি সিবিএস মিয়ামিকে বলেন, ‘আমি একটা গমগম শব্দ শুনেছিলাম এবং ভেবেছিলাম হয়তো কোনো মোটরসাইকেলের শব্দ। ঘুরে তাকাতেই দেখলাম একটা ধুলোর কুন্ডলি আমাদের দিকে আসছে।’ ‘আমাদের একটা কথাই মনে হচ্ছিল যে, এসব কি হচ্ছে? আমরা আমাদের শার্ট দিয়ে মুখ ঢেকে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই এবং নিরাপত্তা কর্মীকে দেখে বলি যে, কী হয়েছে?। তিনি বলেন, যে ভবনটি ধসে গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলে ধ্বংসস্তূপ দেখে সিএনএনকে জানান যে, ‘দেখে মনে হয়েছিল ৯/১১ এর মতো ঘটনা। ২০০১ সালে নিউ ইয়র্কের টুইন টাওয়ারে হামলার পর সেটি ধসে পড়ে।