ভূমধ্যসাগরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার ২৬৪ বাংলাদেশি

লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার চেষ্টাকালে ভূমধ্যসাগর থেকে ২৬৪ অভিবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে তিউনিসিয়ার নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড। দেশটির উত্তর-পূর্বে এল কেটফ উপকূলে ডুবতে যাওয়া ভাসমান একটি কাঠের নৌকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় তিন মিশরীয় নাগরিককেও উদ্ধার করা হয়। তিউনিসিয়ার ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের (আইওএম) বরাত দিয়ে দেশটির বার্তা সংস্থা টিএপি এ তথ্য জানিয়েছে। এ নিয়ে গত তিন মাসে তিউনিসিয়ার জলসীমা থেকে ইউরোপগামী ৪৮৫ জন বাংলাদেশি অভিবাসন প্রত্যাশীকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তিউনিসিয়ার কোস্টগার্ড জানায়, অভিবাসন প্রত্যাশীদের উদ্ধার করে উপকূলে নিয়ে আসার পর আইওএম ও রেড ক্রিসেন্টের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আইওএম জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অভিবাসন প্রত্যাশীদের তিউনিসিয়ার দ্বীপ জেরবার একটি হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। কোয়ারেন্টাইন শেষে নিয়ম অনুযায়ী তাদের ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হবে। এরপর দেশে ফিরতে ইচ্ছুকদের আইএমওর ব্যবস্থাপনায় পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

গত ১৭ মে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে তিউনিসিয়ার জলসীমায় নৌকাডুবির ঘটনায় ৮১ জন বাংলাদেশির মধ্যে ৬৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করে দেশটির নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১৩ জন বাংলাদেশি। এই ঘটনার আগের দিন সাগর পাড়ি দেওয়ার সময় ডুবতে যাওয়া একটি নৌকা থেকে ৫২ জন এবং ২৭ ও ২৮ মে আরো ১৭৯ জন বাংলাদেশিকে উদ্ধার  করা হয়। সব মিলিয়ে এ মুহূর্তে তিউনিসিয়ায় ৭০৭ বাংলাদেশি রয়েছেন।

তিউসিয়ান ন্যাশনাল গার্ড জেনারেল অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের ৩১ মে পর্যন্ত তিউনিসিয়ার জলসীমায় ইতালিমুখী ৩০৮টি অবৈধ অভিবাসন অপারেশন ঠেকানো হয়। সে সময় উদ্ধার ৪ হাজার ৩৭৬ জনের মধ্যে দুই হাজার ৫৩১ জন বিদেশি রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, লিবিয়া ও তিউনিসিয়া থেকে অভিবাসীদের ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান পয়েন্ট ইতালি। দেশটি অভিমুখী নৌকাগুলো লিবিয়া থেকে সরাসরি না গিয়ে প্রায়ই তিউনিসিয়া উপকূল হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার সময় অন্তত ৭৬০ অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে।