ঘটনাস্থল এমপির বাড়ি

খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাকে আটকে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ

নাটোরের লালপুর উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে স্থানীয় এমপি শহিদুল ইসলাম বকুলের বাড়িতে আটকে রেখে তার কাছে চাঁদা দাবি ও তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে শুক্রবার ভোরে রাসেল ও আবুল কালাম নামে দুই জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত রাসেল নেঙ্গপাড়া গ্রামের হাসান আলীর ছেলে ও আবুল কালাম বিজয়পুর গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বাগাতিপাড়া উপজেলার স্যানালপাড়ায় নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুলের বাড়িতে তার সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে সংসদ সদস্য তার অফিসে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা শেষ করে চলে গেলে গোপালপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (এমপি সমর্থক গ্রুপ) রোকনুজ্জামান রোকন এবং তার সহযোগী রাসেল ও আবুল কালাম তাকে সেখানে প্রায় চার ঘণ্টা আটকে রেখে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এক পর্যায়ে তাকে মারধর করে ছেড়ে দেয়। পরে রফিকুল ইসলাম লালপুরে ফেরার পথে উল্লেখিত তিন জন স্যানালপাড়া গ্রামের পাকা রাস্তার মোড়ে পুনরায় তাকে আটকায় এবং তার পেটে পিস্তল ঠেকিয়ে ভয় দেখায়। সাদা কাগজে লিখে নেয় যে, রাসেলের কাছ থেকে তিনি (রফিকুল) ৮ লাখ টাকা ধার নিয়েছেন এবং তা আজকের (শুক্রবারের) মধ্যে পরিশোধ করবেন।

এ ঘটনায় রফিকুল ইসলাম রাতেই বাগাতিপাড়া থানায় তিন জনকে আসামি করে এজাহার দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়ে শুক্রবার ভোরে নাটোরের গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল রাসেল ও আবুল কালামকে আটক করে নিয়ে যায়। নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুল জানান, তার বাসায় বা বৈঠকখানায় কাউকে মারপিট বা আটক রাখার কোনো ঘটনা ঘটেনি। ঘটনাটি সাজানো বলে মনে হয়। লালপুর উপজেলা গুদাম খাদ্যকর্মকর্তা নিজেই তার প্রয়োজনে আমার কাছে এসেছিলেন।