গল্পকথায়
পদার্থবিজ্ঞান
মাধব রায়
সহকারী অধ্যাপক (পদার্থবিজ্ঞান)
ব্লু বার্ড হাইস্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট
গতকালের পর
আকাশ চুপ করে থাকল। সময় অসীম হবার মানে সে বুঝতে পারেনি। অন্যরাও কিছু বলছে না। নীলকান্তবাবু চেষ্টা করলেন উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে বলতে। তিনি বললেন-ধর একজন বিজ্ঞানী ৩০ বছর বয়সে আলোর বেগের অর্ধেক বেগে চলমান অর্থাত্ সেকেন্ডে ১.৫ লক্ষ কিলোমিটার গতিতে চলমান কোনও যানএ চড়ে ২০২০ সালে মহাকাশ ভ্রমণে বের হলেন। ২০৬০ সালে অর্থাত্ চলিশ বছর পর ফিরে এলে তার বয়স কত হবার কথা?
বিন্দু বলল-এটা তো সোজা, যোগ অংক ৩০ আর ৪০ যোগ ৭০ বছর।
কিন্তু না, বললেন নীলকান্তবাবু, দ্রুতবেগে গতিশীল থাকায় ঐ বিজ্ঞানীর বয়স ৪০ বছর বাড়বে না, বাড়বে ৩৪ বছর অর্থাত্ তার বয়স হবে ৩০ যোগ ৩৪ মানে ৬৪ বছর। মানে হচ্ছে গতিশীল কাঠামোতে থাকায় তার সময়টা দীর্ঘ হয়ে গেছে। পৃথিবীতে সময় ব্যবধান ৪০ হলেও গতিশীল কাঠামোতে সময় ব্যবধান হচ্ছে ৩৪। বেগ আরও বেশি হলে তাঁর বয়স আরও কম বাড়বে। তার সময় দীর্ঘ হয়ে যাবে। এটাই কাল দীর্ঘায়ন।
চন্দ্রা এতক্ষণ চুপ করে বসেছিল। সে বলল, আচ্ছা মামা, বিজ্ঞানীরা যে মহাকাশে স্পেসশাটল চেপে যায়, সেখানে কি তাদের ঘড়ি ধীরে চলে?
হ্যাঁ, অনেকটা সেরকম। সময়ের প্রসারণের প্রমাণ পারমাণবিক ঘড়ির ক্ষেত্রেও পাওয়া গেছে। পৃথিবীতে এবং মহাশূন্যের পরিবেশে পারমাণবিক ঘড়ির ক্ষেত্রেও সময়ের হিসাবের তারতম্য দেখা যায়। এই তারতম্য মোটেই ঘড়ির যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে নয়।
তাহলে তো মহাকাশচারীদের বয়সও বাড়বে কম। চন্দ্রা আবার বলে।
তা কিছুটা ঠিক, মহাশূন্যচারীগণ এক নাগাড়ে কমপক্ষে ছয়মাস মহাকাশে কাটিয়ে আসে। সেই ছয়মাসে তাদের জীবনে যা বয়স কম বাড়ে, সেটি ০.০০৭ সেকেন্ড এর মতো ।
এত কম কেন? বিন্দু প্রশ্ন করে।
এত কম, কারণ প্রযুক্তিগত কারণে নভোচারীদের বেগের পরিমাণও কম। আন্তর্জাতিক মহাশূন্য স্টেশনটি নিজের কক্ষপথে সেকেন্ডে ৭.৭ কিলোমিটার বেগে ঘুরতে পারে। যেখানে আলোর বেগ সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার।
কিন্তু কেন এরকম কমে যায়? আকাশ বুঝতে চায়।
কমে যায়, আইনস্টাইনের ধারণা স্থান এবং সময় অভিকর্ষের প্রভাবে বেঁকে যায়। বললেন নীলকান্তবাবু। সেটা আবার কী রকম! রেখা অবাক হলো, স্থান, সময় বেঁকে যাওয়াটা কী রকম?
নীলকান্তবাবু উদাহরণ দিয়ে বোঝালেন, ধর একটা চাদর চারজন চার মাথা ধরে টান টান করে আছে। এটি সোজা হয়ে আছে। এখন এর মধ্যে একটা পাথর রাখা হলো, তাহলে পাথরের স্থানে এটি ঝুলে যাবে না?
তা তো যাবেই। বলল রেখা।
চারদটাকে তো তখন আর টানটান করা যাবে না। এখন যদি এর চেয়ে ছোট আরেকটা পাথর চাদরের অন্য কোনও জায়গায় রাখা হয়, তাহলে সেই ছোট পাথরটাও বড় পাথরের দিকে ঝুঁকে যাবে। এভাবেই মহাকর্ষের আকর্ষণে স্থান-সময় বেঁকে যায়।
কিন্তু এর কারণ কী?
এর কারণটাই আইনস্টাইন আপেক্ষিকতত্ত্বে সমীকরণ দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন। বিষয়টা তত সহজ নয় আসলে।