এইচএসসি পরীক্ষা-২০২২

পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচির আলোকে বাংলা প্রথমপত্র

এইচ. এম. ফেরদাউস হাসান রাসেল

প্রভাষক, বাংলা

মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, ঢাকা

‘তাহারেই পড়ে মনে’

তন্দ্রার বিয়ে হয়েছে পাঁচদিন হলো। এটা তার দ্বিতীয় বিয়ে। প্রথম যে বার বিয়ে করেছিল তখন ছিল শীতকাল। এখন বর্ষাকাল। আকাশে মেঘ। তন্দ্রা  তাকিয়ে আছে জানালার বাইরে, দৃষ্টি তার কোথায় নিবন্ধ জানে না। তার স্বামী এসে পাশে দাঁড়ায়। এমন সময় বৃষ্টি ঝরতে থাকে। স্বামী আনন্দে চিত্কার করে, ‘দেখো কী সুন্দর বৃষ্টি!’ তন্দ্রা  প্রত্যুত্তরে শুধু মৃদু হাসে। আরও জোরে বৃষ্টি নামে। স্বামী হাত ধরে টানে, চলো ভিজি দুজনে। কিন্তু তন্দ্রা  নীরব, নিথর। স্বামী তার ভাবটি বুঝতে পেরে বলে, ‘তন্দ্রা, তোমার এই উপেক্ষা আর আমার সহ্য হচ্ছে না। আমায় ব্যথা দিয়ে কী সুখ তুমি পাও?’ তন্দ্রা আর থাকতে পারে না। স্বামীর কাছে হাত জোড় করে বলে, ‘ওগো, আমি যে কিছুতেই ভুলতে পারছি না, শুধু তাহারেই পড়ে মনে।’

ঘ. প্রিয়জনের বিরহে মানুষ শূন্যতা অনুভব করে কেন? ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার আলোকে আলোচনা করো।

ঘ) মানুষ একা বাস করতে পারে না। বেঁচে থাকতে হলে কাউকে না কাউকে সুখ-দুঃখের সাথি করে নিতে হয়। দীর্ঘদিন বসবাসে সেই সাথিটি অনেক সময় মানুষের সত্তার সাথে মিশে যায়। তাই যখন সাথিটি হারিয়ে যায় বা ছেড়ে চলে যায়, তখন মানুষ আপন সত্তাকে পূর্ণাঙ্গভাবে অনুভব করে না তাই তার মধ্যে দেখা দেয় শূন্যতা। নিজেকে অসম্পূর্ণ মনে হয় তার। কোনো মানুষের সাথে দীর্ঘদিন বসবাসের ফলে পরস্পরের মধ্যে গড়ে উঠে মধুর সম্পর্ক। আর সে সম্পর্ক যদি হয় স্বামী-স্ত্রীর, তাহলে তা কখনই ভোলা যায় না। তাই কোনো স্বামী যদি তার স্ত্রীকে ছেড়ে পরলোকে গমন করে তাহলে তার স্ত্রীকে চরম শূন্যতায় ভুগতে হয়। কবির ক্ষেত্রে ঠিক তাই হয়েছে।

‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কবি তার প্রথম স্বামীকে কোনো ভাবেই মন থেকে মুছে ফেলতে পারছেন না। কবির কবিতা লেখার উত্সাহদাতা, সুখ-দুঃখের সার্বক্ষণিক সাথির স্মৃতিগুলো কবিকে বার বার ডাকছে। প্রেরণাদায়ী স্বামীর অকাল মৃত্যুতে কবির জীবনে নেমে এসেছে প্রচণ্ড শূন্যতা। তাই প্রকৃতি জুড়ে বসন্ত উত্সব শুরু হলেও কবি সে উত্সবে শামিল হতে পারছেন না। বসন্তের আগমনকে নিশ্চিত করতেই বিদায় নিতে হয়েছে শীত ঋতুকে। শীতের এই রিক্ত ও নিঃস্ব বিদায়ের সঙ্গে কবি তার প্রিয়তমের বিদায়ের এক গভীর তাত্পর্য ও মিল খুঁজে পেয়েছেন। তাই তার মন জুড়ে কেবল শীতের রিক্ততা ও বিষন্নতার ছবি। সুতরাং, প্রিয়জনের মৃত্যু বিরহে কবি পরম শূন্যতা অনুভব করছেন। প্রকৃতিতে বসন্ত, আনন্দ-উত্সব বহমান কিন্তু কবির মন শূন্যতায় পূর্ণ। প্রিয়জনের বিরহে সবকিছু তার কাছে শূন্য মনে হচ্ছে। 

পরের অংশ আগামীকাল