ভোগান্তি উপেক্ষা করে বাড়ি ফেরার তাড়া

কষ্টে পরিবহন শ্রমিক

 

বাসের চাকা না ঘোরায়

থমকে গেছে জীবন

পিনাকি দাসগুপ্ত

আগামীকাল সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া সাত দিনের লকডাউনকে সামনে রেখে রাজধানী ছেড়ে যাচ্ছে মানুষ। তাদের মতে, আয় সংকটের শঙ্কায় বাড়ি ফিরছেন তারা। গতকাল শনিবার সকাল থেকেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করে মানুষ। যানবাহন না চললেও সকাল থেকে বাস টার্মিনালে ছিল মানুষের ভিড়। অনেকে রওনা হয়েছেন হেঁটে। গতকাল গাবতলী গিয়ে দেখা গেছে, ঢাকা ছাড়ার উদ্দেশ্যে পরিবারসহ শত শত মানুষ ব্যাগ ও অন্যান্য দরকারি জিনিস নিয়ে সেখানে জড়ো হয়েছেন। লকডাউন আরো বাড়ানো হবে বলে মনে করছেন তারা। ঘরমুখো এসব মানুষ প্রথমে রিকশা বা অটোরিকশায় করে গাবতলী পৌঁছাচ্ছেন। এরপর হেঁটে গাবতলী ব্রিজ পার হচ্ছেন এবং আমিন বাজার থেকে লোকাল বাসে করে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এ ছাড়া, ঢাকামুখী মানুষের ভিড়ও বাড়ছে। হেঁটে গাবতলী ব্রিজ পার হয়ে একইভাবেই রাজধানীতে প্রবেশ করছে মানুষ।

জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গতকাল  মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা ছিল আগের দিনের তুলনায় বেশি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা আঞ্চলিক অফিসের উপপরিচালক জিল্লুর রহমান জানান, টার্মিনালে মানুষের ভিড় বাড়ায় ১৬টি ফেরির সবগুলোকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যাত্রী ও যানবাহন পারাপার ঠিকভাবে চলছে। আরিফ রেজা নামে এক যাত্রী বলেন, এবার ইচ্ছে ছিল গ্রামে ঈদ করব। তবে লকডাউনে বাস বন্ধ। খুলবে কি না তারও ঠিক নেই। করোনার মধ্যে অফিসেও ঝামেলা। তাই সবকিছু পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার আগেই স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে গ্রামে ফিরছি। যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বেশ, হেঁটেই যাত্রা বলা যায় একরকম। এদিকে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস চালকরাও ভাড়া হাঁকছেন দ্বিগুণ-তিনগুণ।

যাত্রী পরিবহনের বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো তত্পরতাও চোখে পড়েনি। তবে গাবতলী জোনের ট্রাফিক বিভাগের টিআই কাজী মাহাবুব বলেন, ‘গাবতলীতে ব্যারিকেড দিয়ে যেসব গাড়ি রাজধানীর বাইরে বের হচ্ছে, সেসব গাড়ি আমরা নজরদারিতে রাখছি। স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কি না সে বিষয়গুলো আমরা খেয়াল করছি।’ গণপরিবহনকেন্দ্রিক বিপুলসংখ্যক চালক-শ্রমিক আবারও বেকার হয়ে পড়তে যাচ্ছেন। টার্মিনালগুলোতে কিছুসংখ্যক শ্রমিক বাস পাহারা দিয়েই সময় কাটাচ্ছেন। আয় বন্ধ থাকায় সংসার চালানো দূরের হিসাব, প্রতিদিনকার নিজের খাওয়ার টাকাই জোগাড় অনিশ্চিত। বাসের চাকা ঘুরলে যাদের জীবন চলে, বাস বন্ধ থাকায় যেন তাদের জীবন চাকাই থমকে গেছে।

গতকাল সকাল থেকে মহাখালী বাসটার্মিনাল এলাকা ঘুরে চিরচেনা কোলাহল চোখে পড়েনি। যাত্রীদের উদ্দেশ করে হাঁকডাক নেই, সারি সারি থামিয়ে রাখা হয়েছে বাস। টার্মিনালের কিছু দোকান খোলা রয়েছে। সেখানে গাড়ির শ্রমিকরা বসে আড্ডা দিয়ে সময় পার করছেন। মালিক পক্ষ থেকে কোনো সহায়তা দেওয়া হচ্ছে কি না জানতে চাইলে শ্রমিকরা জানান, কিছু কিছু পরিবহনের শ্রমিককে নামমাত্র সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বেশির ভাগ শ্রমিকই খেয়ে-না খেয়ে কোনোভাবে দিন কাটাচ্ছেন।