ইত্তেফাক রিপোর্ট
বাজেটে ঘোষিত ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নে স্থানীয় শিল্পে গুরুত্ব বাড়াতে হবে। করোনার এই সময়ে কৃষি খাতে জোর দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় শিল্প বিকাশে আরো মনোযোগী হতে হবে। দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ আরো বাড়াতে হবে। ‘জাতীয় বাজেট ২০২২-২২: বেসরকারি খাতের দৃষ্টিভঙ্গি’ শিরোনামে আয়োজিত ওয়েবিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি) এবং বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (বিইআই) যৌথভাবে গতকাল শনিবার এই ওয়েবিনারটি আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু ঘাটতি আছে, তবে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। আমি যখন চাকরি শুরু করি, তখন যে অবস্থায় ছিল, এর চেয়ে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। হয়তো বড় পরিবর্তন করতে পারিনি, কিন্তু কিছু পরিবর্তন করতে পেরেছি। আমলাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি নিজেও আমলা ছিলাম। আমলারা পরিবর্তন চায় না, তবে আমাদেরকেই পরিবর্তন আনতে হবে। আলোচনায় ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দুর্নীতির বিষয় উল্লেখ করলে পরিকল্পনামন্ত্রী এ বিষয়ে বলেন, দুর্নীতি কেউ চায় না, তবু দুর্নীতি বিরাজমান। এটাকে আক্রমণ করার অস্ত্র আপাতত নেই। সরকার চেষ্টা করছে। প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষি খাতকে অবশ্যই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে আরো সতর্কতা ও মনিটরিং ব্যবস্থা করা হবে। রিজার্ভ ফান্ড ব্যবহারের বিষয় সুনির্দিষ্ট প্রকল্প ও প্রস্তাবনা পেশ করার জন্য তিনি বলেন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, বাজেটে থোক বরাদ্দ হিসেবে সাত হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এখন আবার লকডাউন দেওয়া হচ্ছে। এই সময়ে যেন এই টাকা গরিব মানুষের জন্য খরচ করা হয়।
ওয়েবিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন বিইআইয়ের সভাপতি রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির। আইবিএফবির সভাপতি হুমায়ুন রশীদের সভাপতিত্ব আয়োজিত ওয়েবিনারে আইবিএফবির ভাইস প্রেসিডেন্ট এম এস সিদ্দিকী, বাংলাদেশের পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আবদুল মজিদ, বিআইআইএসএসের গবেষণা পরিচালক ড. মোহাম্মদ মাহফুজ কবির বক্তব্য দেন।
মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, রিজার্ভ বাড়লেই তা অর্থনীতির জন্য স্বাস্থ্যকর নাও হতে পারে। আমরা হয়তো শ্রীলঙ্কা ও সুদানকে ঋণ দিয়ে বাহবা নিতে পারব। এই অর্থ বসিয়ে না রেখে অর্থনীতিতে কাজে লাগানো উচিত।
সাবেক সেনা প্রধান হারুন অর রশিদ বলেন, দুর্নীতি যে মাত্রায় পৌঁছেছে, তা নিয়ে বাজেটে কোনো দিকনির্দেশনা নেই। এসময় তিনি কৃষি খাতে উদ্যোক্তাদের নানা হয়রানির তথ্য তুলে ধরেন। ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘের (টিএমএসএস) নির্বাহী পরিচালক হোসনে আরা বলেন, ক্ষুদ্র এনজিওগুলোর অবদান অর্থনীতিতে অনেক বেশি। কিন্তু বাজেটে তাদের গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, সরকারের মেড ইন বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে হলে স্থানীয় কৃষি, শিল্প উত্পাদন বাড়াতে হবে। ড. মাহফুজ কবির তার বক্তব্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রণোদনার বিষয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করেন। রানার গ্রুপের চেয়ারম্যাম হাফিজুর রহমান খান বলেন, কৃষি খাতের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। সেইসঙ্গে দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় জোরারোপ করেন তিনি।