ইত্তেফাক রিপোর্ট
মহামারি করোনা ভাইরাসের কবলে পড়ে অনেক দিন থেকেই বন্ধ রয়েছে হোটেল-রেস্তোরাঁ। এ খাতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশে এ খাতকে টিকিয়ে রাখতে ভ্যাট হার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কমিয়েছে। দেশে এ ভ্যাট হার ৫ শতাংশ হলে ভ্যাট আদায় বাড়বে বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা। হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, তারা সবাই মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) দিতে চান। তবে ভ্যাটের হার কমানোর দাবি করেছেন। পাশাপাশি ভ্যাট ফাঁকি রোধে রেস্তোরাঁগুলোতে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) বসানোর দাবিও তোলা হয়েছে।
বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি সম্প্রতি এসব দাবি জানিয়ে এনবিআরের চেয়ারম্যানের কাছে একটি আবেদন করেছে। এতে ভ্যাটের হার ৫ শতাংশ করার অনুরোধ জানানো হয়। রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. ফিরোজ আলম সুমন বলেন, রেস্তোরাঁয় খাবার তৈরিতে যেসব উপকরণ ব্যবহূত হয়, তার বেশির ভাগ ভ্যাটমুক্ত। ফলে রেয়াত নেওয়া যায় না। এতে খুচরা পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাটের প্রভাব অনেক বেশি হয়। তিনি বলেন, আমরা সবাই ভোগান্তি ছাড়া ভ্যাট দিতে চাই। হারটি ৫ শতাংশ করা হলে সবাই ভ্যাট দেবে। এতে সরকারের রাজস্ব অনেক বাড়বে। ভোক্তারাও সুফল পাবেন। তিনি বলেন, ফাইভ স্টার হোটেল ১৫ শতাংশ ভ্যাট দেয়, কিন্তু তারা ৮ শতাংশ রেয়াত নিতে পারে। আর আমরা ১৫ শতাংশ ভ্যাট দেই, কিন্তু রেয়াত নিতে পারি না। এক্ষেত্রে আমরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। আর ১৫ শতাংশ ভ্যাট অনেক বেশি। এছাড়া ইএফডি মেশিনের কারণেও আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। শতকরা ৫ শতাংশ রেস্টুরেন্টে ইএফডি বসানো হয়েছে। ফলে যে রেস্টুরেন্টে মেশিন বসানো হয়েছে, সেখানে ক্রেতা কম। এক্ষেত্রে আমরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চাই। তিনি বলেন, গবেষণা অনুযায়ী দেশে ৪ লাখ ৩৬ হাজার হোটেল-রেস্টুরেন্ট রয়েছে। প্রতিষ্ঠান আর জনবলের দিক থেকে পোশাক খাতের পর হোটেল-রেস্টুরেন্ট খাতের অবস্থান। ফলে এটি একটি সম্ভাবনাময় খাত।
এ খাতে ভ্যাট হার ৫ শতাংশ করা হলে বছরে অতিরিক্ত দুই হাজার ৩০০ কোটি টাকা রাজস্ব পাবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশে এ খাতে ভ্যাট হার বেশি। করোনার কথা বিবেচনা করে ভ্যাট হার কমানো হলে এ খাত অন্তত ঘুরে দাঁড়াবে। ভ্যাট হার কমে গেলে খাবারের দামও কমে যাবে।
এনবিআর সূত্রমতে, দেশে বেষ্টনী ও বৈদ্যুতিক পাখা নেই, শুধু দুটি বাতি আছে এমন রেস্তোরাঁর খাবারের বিলের ওপর কোনো ভ্যাট নেই। ফুটপাতের রেস্তোরাঁয় সাধারণত বেষ্টনী ও পাখা থাকে না। এসব রেস্তোরাঁয় খাওয়া-দাওয়া করলে ভ্যাট দিতে হবে না। তবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নয় কিন্তু বেষ্টনী ও বৈদ্যুতিক পাখা আছে, এমন রেস্তোরাঁয় খাবারের বিলের ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হয়। আর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হোটেল-রেস্তোরাঁয় ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। ফাস্টফুডের দোকানের ক্ষেত্রে একই শর্ত। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ফাস্টফুডের দোকানে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। আর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নয় এমন ফাস্টফুডের দোকানে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। শ্রেণিভেদে কফিশপেও একই হারে ভ্যাট দিতে হয়। একইভাবে আবাসিক হোটেলে নন এসি কক্ষ থাকলে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। আর শীতাতপ রুমের ভাড়ার ওপর দিতে হয় ১৫ শতাংশ ভ্যাট।