স্টিলের কাঁচামালের ওপর ভ্যাট-ট্যাক্স কমানোর দাবি

ইত্তেফাক রিপোর্ট

দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে স্টিলের কাঁচামালের ওপর ভ্যাট, ট্যাক্স, শুল্ক কমানোর দাবি করেছে বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফেকচারার্স  অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ)। একই সঙ্গে সংগঠনটি বলছে, উন্নয়নের বরাদ্দ বাড়াতে হবে। নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণে ইতিমধ্যেই অনেক বড় বড় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজের গতি কমিয়ে দিয়েছে। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সামগ্রিকভাবে দেশের নির্মাণশিল্পে ভাটা দেখা দিয়েছে। ফলে নির্মাণশিল্পের সঙ্গে জড়িত সিমেন্ট, ইট, বালু, পাথর, হার্ডওয়্যার, টাইল্স ফ্যাক্টরিগুলো বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। এই সমস্যা পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে দেশের নির্মাণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ব্যাহত হবে এবং নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার প্রায় ২ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলে দেশে এক অর্থনৈতিক মহামারির সৃষ্টি হবে।

গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসএমএ উল্লেখ করে, বাংলাদেশের ইস্পাত শিল্পে রড উত্পাদনের জন্য ব্যবহূত প্রধান কাঁচামাল গলনশীল স্ক্র্যাপ (মেল্টিং স্ক্র্যাপ) ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজার হতে আমদানি করতে হয়, দেশের ভেতর থেকে যোগান দেওয়া হয় বাকি ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। এই শিল্পকে মূলত আমদানির ওপরই নির্ভর করতে হয়। এসব স্ক্র্যাপ আমদানি হয় যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপের দেশগুলো হতে।

বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কারণে এসব দেশ হতে সরবরাহ যেমন কমেছে, তেমনি তাদের নিজস্ব চাহিদাও বেড়েছে। এদিকে গণচীন যেখানে ২০০৮ থেকে ২০২০ পর্যন্ত তাদের নিজস্ব কাঁচামাল থেকেই লৌহজাত পণ্য উত্পাদন করে, সেখানে করোনাকালীন সময়ে চীন সরকার মেল্টিং স্ক্র্যাপ আমদানি উন্মুক্ত করে দেওয়ায় তাদের চাহিদার একটা বড় প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। এমতাবস্থায় মেল্টিং স্ক্র্যাপের মূল্য যেখানে গত অক্টোবর ছিল ৩০০ থেকে ৩৫০ ইউএস ডলার তা বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়ে ৫৫০ থেতে ৫৯০ ইউএস ডলার পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে, ফলে ভারতসহ বেশ কিছু দেশ রডের কাঁচামালের আমদানির উপর শুল্ক কমিয়েছে। তাই এ খাতের উদ্যোক্তারা মনে করছেন কাস্টম ডিউটি, আমদানি অগ্রিম আয়কর ও ভ্যাট যদি না কমানো হয় তাহলে রড তৈরির কাঁচামাল যোগানের সংকটের পাশাপাশি রডের মূল্য অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পাবে।