জো ক স

ডায়াবেটিস 

 

প্রেমিক :ওগো, তুমি কি জানো, সারাদিন তুমি আমার হূদয়ে হাঁটাহাঁটি করো?

প্রেমিকা :এটা কী বললা তুমি? আমাকে এটা বলতে পারলা? 

প্রেমিক :বুঝলাম না, এতে রাগ করার কী আছে?

প্রেমিকা :রাগ করার কী আছে, মানে? আমি সারাদিন হাঁটাহাঁটি করতে যাব কেন? আমার কি ডায়াবেটিস?

জায়গা হচ্ছে না বলেই তো

স্যার :এই যে দেশের এত উন্নয়নের কথা বললাম, তোরা একটা বল তো শুনি?  

ছাত্র :এই যেমন স্যার, আমাদের দেশে আরো নতুন নতুন ব্যাংক হচ্ছে। 

স্যার :তো কী হয়েছে? 

ছাত্র :পুরোনো ব্যাংকগুলোতে টাকা রাখার জায়গা হচ্ছে না বলেই তো হচ্ছে, তাই না স্যার?   

স্যার নির্বাক।

 

কোটিপতি হওয়ার উপায়

ক্লায়েন্ট :বাইরে লিখে রেখেছেন, পরামর্শে কাজ না হলে মূল্য ফেরত। কথা ঠিক তো? 

পরামর্শদাতা :অবশ্যই। আমার পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করে আজ পর্যন্ত কেউ ফেল করেনি।  

ক্লায়েন্ট :আমি খুব তাড়াতাড়ি কোটিপতি হতে চাই।

পরামর্শদাতা :ও এই ব্যাপার? তা, ১০ টাকা খরচ করতে পারবেন?

ক্লায়েন্ট :এটা কী বলেন? কোটিপতি হওয়ার জন্য মাত্র ১০ টাকা খরচ করতে পারব না? 

পরামর্শদাতা :তাহলে বাইরে গিয়ে ১০ টাকা দিয়ে আজকের একটা পেপার কেনেন।

ক্লায়েন্ট :পেপার কিনলে কী হবে?

পরামর্শদাতা :ওখানে সুবিস্তারে লেখা আছে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে হাফিজুরের কোটিপতি হওয়ার রহস্য। ওনাকে ফলো করেন, আর হয়ে যান কোটিপতি।

 

 

 

 

নির্বাচনী জোকস

 

তারেকুর রহমান

 

v প্রথম ব্যক্তি :ভোটের কী অবস্থা? কেমন হলো এবারের ভোট?

দ্বিতীয় ব্যক্তি :দুই ঘণ্টা পরে ভোট সুষ্ঠু হয়েছে।

প্রথম ব্যক্তি :প্রথম দুই ঘণ্টা পরে কেন?

দ্বিতীয় ব্যক্তি :না মানে, প্রথম দুই ঘণ্টা জাল ভোট মারার পর আর ভোট বাকি ছিল না।

 

v প্রথম ব্যক্তি :বুঝলেন মোতালেব সাহেব, এবারের মতো আরামে আর ভোট দিই নাই।

দ্বিতীয় ব্যক্তি :কাহিনি কী?

প্রথম ব্যক্তি :আসলে আমরা ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার আগেই নাকি অন্য কেউ ভোট দিয়ে দিয়েছে। তাই আর কষ্ট করে ভোট কেন্দ্রে যেতে হয়নি। এর চেয়ে আরাম আর কী হতে পারে?

 

v পুলিশ :আপনারা নাকি বিপক্ষ দলের এজেন্টদের ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে দেননি?

আসামী :কী? কে বলছে এসব কথা?

পুলিশ :কেন? এটা কি সত্য নয়?

আসামী :আরে আমরা তো ওদের ভোট কেন্দ্রে তো দূরের কথা, ওদের বাসা থেকেই বের হতে দিই নাই।

 

v প্রথম ব্যক্তি :আপনি ভোট না দিয়ে ব্যালট পেপার নিয়ে চলে এলেন কেন?

দ্বিতীয় ব্যক্তি :দুই প্রার্থীর একজনকেও আমার পছন্দ না, তাই...

প্রথম ব্যক্তি :আপনি তো চাইলেই না ভোট দিতে পারতেন।

দ্বিতীয় ব্যক্তি :কী লাভ হতো? এরচেয়ে আমি এ কাগজের অপর পিঠে হিসাব-নিকাশ করুম। অন্তত ব্যালট পেপারটা কাজে আসবে।

 

v পুলিশ :ছিঃ ছিঃ আপনি একজন প্রার্থী হয়ে কীভাবে ব্যালট বক্স চুরি করে নিয়ে এলেন?

প্রার্থী :কিছুই করার ছিল না।

পুলিশ :মানে কী?

প্রার্থী :দেখেন, আমার দলে আমি ছাড়া আর কেউই নাই। আমার এমন কোনো নেতাকর্মীও নাই যারা এ কাজ করবে। বিভিন্ন কেন্দ্রে অনেকেই ব্যালট বক্স চুরি করে নিয়ে যায়। আমার কেউ না থাকায় রাগে ক্ষোভে আমি নিজেই চুরি করছি।

শীতকালীন ওয়ার্ম আপ

 

সাংবাদিক :কী ব্যাপার, নির্বাচনের এত আগে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে দিলেন যে?

প্রার্থী :তাহলে কি নির্বাচনের পরে করার কথা বলছেন?

সাংবাদিক :আপনাদের তো নির্ধারিত তারিখের আগে প্রচারে না-নামার নির্দেশ আছে!

প্রার্থী :নির্দেশ মানছি তো।  

সাংবাদিক :কই মানলেন? এই যে নির্বাচনী মিছিল শুরু করেছেন?  

প্রার্থী :আরে ভাই, শীতে যেন মানুষ জমে না যায়, তাই শীতকালীন ওয়ার্ম আপ। 

পাঁচ মিশালি জোকস

 

সত্যজিত্ বিশ্বাস

 

জিম্বাবুয়ের সাথে সিলেটে, প্রথম টেস্টে হারার কারণসমূহ—

v এত সুন্দর একটা স্টেডিয়ামের অভিষেক। ব্যাটিং করতে নামলে চোখ কী আর বলের দিকে থাকে? তাই তো টপাটপ উইকেটগুলো পড়ল। নাহলে দুর্দান্ত সব ব্যাটসম্যানকে আউট করে, এমন সাধ্যি কার?

v উইকেট বুঝতে ভুল, সিদ্ধান্ত নিতে ভুল, একাদশ নির্বাচনে ভুল, ব্যাটিংয়ে শট সিলেকশনে ভুল—এত এত ভুলে জিততে চাওয়াটাও কি ভুল না? তাই সর্বশেষ এই ভুলটা না করার প্রাণপণ চেষ্টাতেই হেরে যাওয়া।    

v বাংলাদেশের খেলোয়াররা ভেবেছিল এটা বুঝি টেস্ট হচ্ছে, ফাইনাল কিছু না।

v জিম্বাবুয়ের সাথে জিততে তো পারে সবাই, হারতে পারে কে?—এটা দেখাতেই ... ...  

v প্রতিবার যদি ডেকে এনে হোয়াইট ওয়াশ করে বিদায় দিই তাহলে কি ওরা আর কখনো আসতে চাইবে?

ব্যাপারগুলো বুঝতে হবে বস।     

 

সংলাপ কি ফল গাছ?

প্রথম বন্ধু :এবার খুব আশায় ছিলাম, হতাশ হলাম রে। 

দ্বিতীয় বন্ধু :কী নিয়ে? 

প্রথম বন্ধু :ভেবেছিলাম, এবার বুঝি সংলাপে ফল আসবে।

দ্বিতীয় বন্ধু :তোর আশাতেই তো গলদ।

প্রথম বন্ধু :কেন?

দ্বিতীয় বন্ধু :সংলাপ কি কোনো ফলের গাছ, যে ফল আসবে?

আত্মত্যাগ

প্রথম বন্ধু :কীরে এমন করছিস কেন?

দ্বিতীয় বন্ধু :অসম্ভব বুক ব্যথা করছে রে। গ্যাসের চাপে জীবন শেষ।  

প্রথম বন্ধু :তাই নাকি? চল, চল তোকে এক্ষুনি নিয়ে যাই।

দ্বিতীয় বন্ধু :তোর মতো বন্ধু হয় না রে। কোন হাসপাতালে নিয়ে যাবি?

প্রথম বন্ধু :হাসপাতালে নেব কেন?

দ্বিতীয় বন্ধু :তাহলে কই নিবি?

প্রথম বন্ধু :তোকে নিয়ে সিএনজি স্টেশনে যাব। 

দ্বিতীয় বন্ধু :কেন? 

প্রথম বন্ধু :কেন মানে? জানিস না গ্যাসের কোনো চাপই নেই সিএনজি স্টেশনে।

দ্বিতীয় বন্ধু :তো, আমি কি করব?

প্রথম বন্ধু :দেশের এমন সংকটজনক অবস্থায় একটু ত্যাগ করতে পারবি না?

 

চুলার গ্যাস

স্যার :যা মহান, তা মানুষ সব সময় স্মরণ করে। তার চলে যাওয়াটা কেউ মেনে নিতে পারে না। ফিরবে না জেনেও তাঁর জন্য প্রতিটা ক্ষণ সবাই অপেক্ষা করে। বুঝেছ সবাই?  

ছাত্ররা সমস্বরে :জি স্যার।

স্যার :তাহলে, মহানের উদাহরণ দাও তো।

পিছনের বেঞ্চ থেকে একজন :চুলার গ্যাস।  

 

ডালে, পাতায়, শিরায়

প্রথম বন্ধু :দেখেছিস, মাদকবিরোধী অভিযানের সফলতা? এখন কোথাও ফেনসিডিলের খালি বোতল পড়ে থাকতে দেখিস?  

দ্বিতীয় বন্ধু :তা অবশ্য ঠিক বলছিস, কোথাও ফেনসিডিলের বোতল দেখি না।

প্রথম বন্ধু :কী বুঝলি? মাদক ব্যবসায়ীরা ডালে ডালে চললে, ওদের সাথে পাতায় পাতায় চলতে হয়।

দ্বিতীয় বন্ধু :আচ্ছা, তুই কি এখন জুস, লাচ্চির খালি কন্টেনার পড়ে থাকতে দেখিস রাস্তায়? 

প্রথম বন্ধু :দেখব না কেন? অনেক দেখি। কিন্তু তাতে কী?

দ্বিতীয় বন্ধু :না মানে ফেনসিডিল এখন এসব বোতলেই দেশে ঢুকছে তো, তাই।

প্রথম বন্ধু :বলিস কি? এবার তো তাহলে শিরায় শিরায় চলতে হবে। 

 

স্পেশাল নমিনেশন

প্রথম বন্ধু :ফেসবুকে বন্ধুদের মাঝে আমার যে একটা অবস্থা, চল যাই, নমিনেশন ফরম কিনেই ফেলি।    

দ্বিতীয় বন্ধু :আরে ধুর, এটা তো সবাই কেনে। তোর মতো স্পেশাল সেলিব্রিটির জন্য সাধারণ নমিনেশন ফরম কিনলে চলবে?

প্রথম বন্ধু :তাও তো কথা। তাহলে?

দ্বিতীয় বন্ধু :তোর জন্য একটা স্পেশাল ফরম কিনতে হবে।      

প্রথম বন্ধু :সেটা কী?

দ্বিতীয় বন্ধু :নো-মেনশন ফরম। 

 

 

কার্টুন রবিউল ইসলাম সুমন