নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতন বন্ধের দাবি

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জাতিসংঘকে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান ১০ মানবাধিকার সংস্থার

বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা হেফাজতে নির্যাতন ও নিষ্ঠুর আচরণের ব্যাপকভিত্তিক অভিযোগের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার—এমন উল্লেখ করে ১০টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা জাতিসংঘ ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি চূড়ান্ত ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানিয়েছে।

মানবাধিকার বিষয়ক ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার একটি মোর্চা শনিবার যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো গ্রেফতারকৃত এবং সন্দেহভাজনদের নির্যাতন ও নিষ্ঠুর আচরণ করছে। শত শত মানুষ গুম বা বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ধরনের অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে বর্ণনা করেছে বাংলাদেশের সরকার। ১০টি মানবাধিকার সংস্থা হলো—এশিয়ান ফেডারেশন এগেইনস্ট ইনভলান্টারি ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স, এশিয়ান ফোরাম ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন, এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন, সিভিকাস:ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স ফর সিটিজেন পার্টিসিপেশন, ইলেওস জাস্টিস-মোনাস ইউনিভার্সিটি, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস, ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন এগেইনস্ট টর্চার এবং রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটস।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের উচিত বাংলাদেশে গুম, নির্যাতন এবং বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে একটি রেজ্যুলেশন বা প্রস্তাব গ্রহণ করা। এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এই বিবৃতিকে ভিত্তিহীন এবং অসত্য বলে বর্ণনা করেছেন। বিবিসিকে তিনি বলেন, যেসব অভিযোগের কথা তারা বলছেন, এখানে ঐ ধরনের কিছু করা হয় না। বাংলাদেশে কাউকে আটক করা হলে অনেক সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেখানে আইনের নিয়ম অনুযায়ী, তার অধিকার, মানবাধিকারের সবকিছু অনুসরণ করেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে নির্যাতন যাতে না হয়, সেজন্য একটি আইনও রয়েছে। কেউ নির্যাতন করলে সেই আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে। ফলে বাংলাদেশে এই ধরনের নির্যাতনের কোনো সুযোগ নেই।