‘জানি না ঝুঁকি নিয়েও কাজ করা সম্ভব হবে কি-না!’

 বিনোদন প্রতিবেদক

 

‘গত বছরের দুই ঈদ তো পুরনো কাজ দিয়েই কাটাতে হয়েছে বলা চলে। তবু শঙ্কা নিয়ে গত রোজার ঈদে আমরা নতুন নাটকে কাজ করেছি। সেই ধারাবাহিকতা এখনো চলছে। তবে সামনে দেশ আবারো লকডাউনের কবলে পড়তে যাচ্ছে। জানি না ঝুঁকি নিয়েও আর কাজ করা সম্ভব হবে কি-না।’—আসন্ন ঈদের নাটক নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে কথাগুলো বললেন অভিনেতা জামিল হোসেন। এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি ঈদের নাটকের কাজ শেষ করেছেন তিনি। পাশাপাশি হাতে রয়েছে বিভিন্ন মাধ্যমের অনেকগুলো নাটকের কাজ। নিজের ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাইলে শুটিংসেট থেকে জামিল বলেন, ‘এখন বড় মিয়া শিরোনামের একটি ধারাবাহিক নাটকের শুটিংয়ে আছি। এছাড়া এরইমধ্যে ঈদের জন্য ৪-৫টি একক নাটকের কাজ শেষ করলাম। পাশাপাশি গোলমাল, বউ শ্বাশুড়িসহ বেশ কয়েকটি নাটক প্রচার হচ্ছে। সেগুলোর কাজ নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছি।’ নিয়মিত কাজের পাশাপাশি ঈদের সময় নাটকের সংখ্যা বাড়ে কয়েকগুণ। তবে সংখ্যার বিচারে নাটকে মান ও জনপ্রিয়তার পাল্লা অনেকটাই প্রশ্নবিদ্ধ থাকে। অনেকেই সৃজনশীল মানুষের হাতে নাটক না থাকা, উন্মুক্ত মাধ্যমে বাধ্যবাধকতা না থাকা, বাজেট কমা, একই ঘরানার শিল্পী দিয়ে কাজ করানোসহ নানা অযুহাত দাঁড় করান। বিষয়টি নিয়ে জামিল বলেন, ‘এখন তো টিভি চ্যানেল বাড়ার পাশাপাশি ইউটিউব, ওটিটিসহ নানা মাধ্যমে নাটক রিলিজ হচ্ছে। ফলে কাজের পরিধি বেড়েছে। এই মাধ্যমগুলোর জন্য অসংখ্য কাজ লাগে। আর ঈদে তো সেটা আরো কয়েকগুণ বেড়ে যায়। নির্মাতা-তারকাদের অল্প সময়ে অনেক কাজ করতে হয়। যার প্রভাব নাটকের ওপর পড়বে এটাই স্বাভাবিক। পাশাপাশি বাজেট, চরিত্র কমাসহ নানা কারণ তো রয়েছেই। ভালো কাজ যে হচ্ছে না, তা না। কিন্তু নাটক বেশি নির্মাণ হওয়ায় প্রভাব একটু কম সময় স্থায়ী থাকছে।’ অন্যদিকে দেশের ওটিটি প্লাটফর্মগুলো এখনো সেভাবে অবস্থান তৈরি করতে না পারলেও এই মাধ্যমটির দিকে ঝুঁকছেন প্রতিষ্ঠিত নির্মাতা-তারকারা। দেশের বাইরের প্লাটফর্মগুলোতেও তাদের কাজ প্রশংসিত হচ্ছে। শুরুতে দেশের প্লাটফর্মগুলো নেতিবাচক আলোচনায় থাকলেও ধীরে ধীরে এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। পাশাপাশি স্বাধীনভাবে কাজের একটি ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন। যা ইন্ডাস্ট্রির জন্য ইতিবাচক একটি দিক। এ নিয়ে জামিল বলেন, ‘ওটিটি মাধ্যমটি আমাদের জন্য দারুণ এক আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। এছাড়া আগে যেমন নির্ধারিত শিল্পী নিয়ে কাজের চর্চা ছিল সেটা কিন্তু ওটিটিতে নেই। ওটিটিতে গল্পই মূল হিরো। যদি আমরা নিজেদের গল্পে, প্রকৃত শিল্পীদের নিয়ে মানসম্মত কাজ এই মাধ্যমটিতে দিতে পারি তাহলে আমাদের জন্য খুবই ইতিবাচক হবে। শুরু মতো সুড়সুরি মার্কা কাজ দিয়ে মাধ্যমটি নষ্ট করা ঠিক হবে না। এ ধরনের কাজ নিয়ে এখনই আমাদের ভাবতে হবে। অশ্লীল সংলাপ ও দৃশ্যের বিরোধী আমি আগেও ছিলাম, এখনো আছি। আর স্বাধীনতা নিয়ে বলবো, আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে মাধ্যম স্বাধীন হলেও কিছু বিষয় নিয়ে নির্মাণে বাধ্যবাধকতা আগেও ছিল, এখনো আছে।’ মীরাক্কেল দিয়ে যাত্রা শুরু করা জামিলের সমসাময়িক অনেকেই মিরাক্কেল জয় করে এসেও ঝরে পড়েছেন। সেই জায়গায় ব্যতিক্রমী উদাহরণ তৈরি করেছেন জামিল।