তালেব রানা
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারতের উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব, গোয়া, মণিপুর ও উত্তরাখণ্ড রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একমাত্র পাঞ্জাব বাদে বাকি চার রাজ্যে ক্ষমতায় বিজেপি। পাঞ্জাবে ক্ষমতায় রয়েছে কংগ্রেস। এই রাজ্যগুলোর মধ্যে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উত্তর প্রদেশ। ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য এটি। বলা হয়, লোকসভা নির্বাচনে যারা এই রাজ্যে ভালো করে তারাই কেন্দ্রে সরকার গঠন করে।
বর্তমানে উত্তর প্রদেশ রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। উত্তর প্রদেশ বিধানসভার ৪০৩ আসনের মধ্যে বিজেপির রয়েছে ৩১৫টি আসন। এছাড়া উত্তর প্রদেশে লোকসভার ৮০ আসনের মধ্যে ৬৪টিই রয়েছে বিজেপির দখলে। সেই হিসেবে উত্তর প্রদেশ এখন বিজেপির বড় রাজনৈতিক ঘাঁটি। তারপরও এই উত্তর প্রদেশ নিয়ে বিজেপির বেশি চিন্তা। সেখানে সাম্প্রতিক পঞ্চায়েত নির্বাচনে দল ভালো করতে পারেনি। সমাজের নিচু তলায় ও কৃষকদের অসন্তোষও ভাবাচ্ছে বিজেপিকে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আগামী বছর দেশের ভোট রাজনীতিতে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বছর। দেশে পাঁচ রাজ্যে হতে চলা বিধানসভা নির্বাচনকে অনায়াসে ২০২৪ লোকসভার সেমিফাইনাল বলা যায়। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে নরেন্দ্র মোদি সরকারের ভূমিকা সব মহলেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা যায়, করোনা পরিস্থিতিতে মোদি সরকারের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে ঠিক কতটা জনপ্রিয়তা ফেরানো গেছে সেটাই বড় পরীক্ষা হতে চলেছে আগামী বছর পাঁচ রাজ্যের ভোটে।
খবরে বলা হচ্ছে, ইউপিতে ক্ষমতা ধরে রাখার অগ্নিপরীক্ষায় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তবে যোগীর থেকেও ইউপি নির্বাচনে বড় পরীক্ষা মোদি-শাহের। কারণ ইউপিতে বিজেপি ক্ষমতাচ্যুত হলে ২০২৪ লোকসভা বিজেপির জয় বেশ কঠিন হয়ে যাবে। তাই উত্তর প্রদেশে জিততে মরিয়া বিজেপি। যে কারণে আগেভাগেই গুরুত্বপূর্ণ এই রাজ্যের নির্বাচনি কৌশল প্রণয়নে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে বিজেপি।
বিজেপির এই প্রস্তুতির আরেকটি বড় কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরাও। সেটা হলো—পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল। গত মার্চ-এপ্রিলে একই সঙ্গে পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন হয়েছিল। কিন্তু বিজেপির মূল টার্গেট ছিল পশ্চিমবঙ্গ। এজন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিজেপির শীর্ষ নেতারা রীতিমতো চষে বেড়িয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গ। টানা দুইবারের ক্ষমতাসীন দল মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেসকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মমতাকে ক্ষমতা থেকে নামানো যায়নি। গতবারের চেয়েও বেশি আসন নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এসেছে। আর বিজেপির আসন সংখ্যা ১০০ ছাড়ায়নি।
বলা চলে, সর্বশক্তি প্রয়োগ করে পশ্চিমবঙ্গে সফল হতে না পারায় আগামীতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনগুলোয় অনেক বেশি সতর্ক বিজেপি। তাই তাদের প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু হয়েছে। আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে হোঁচট খাওয়ার পরে উত্তর প্রদেশসহ পাঁচ রাজ্যে ভোটের সাত-আট মাস আগে থেকেই বিজেপি তার ভোট-যন্ত্রকে সচল করতে নেমে পড়েছে। শনিবার দিল্লিতে বিজেপি সদর দপ্তরে দুই দফায় শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হয়। সকালে অমিত শাহ ও বিজেপি সভাপতি জে পি নড্ডা বৈঠক করেন রাজনাথ সিংহ, নির্মলা সীতারামন, স্মৃতি ইরানি, নরেন্দ্র সিংহ তোমরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও দলের নেতাদের সঙ্গে। বিকালে দলের সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে আবারও বৈঠকে বসেন শাহ-নড্ডা। তারা কোনোভাবেই উত্তর প্রদেশকে হাতছাড়া করতে রাজি নন। তবে উত্তর প্রদেশ নিয়ে বিজেপির চিন্তা অনেকটাই কমতে পারে। কারণ বিধানসভা নির্বাচনে বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) একাই লড়বে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির নেত্রী মায়াবতী। ২০১৭ সালের বিধানসভা ভোটে জোট গড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়েছিল সমাজবাদী পার্টি, কংগ্রেস ও বিএসপি। কিন্তু জয় অধরাই ছিল। নির্বাচনের সাত মাস আগে মায়াবতীর একলা চলো নীতিতে বিরোধী জোট ধাক্কা খেল বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ২০২৪-এ লোকসভা ভোট রয়েছে। তার আগে বিজেপিকে ধাক্কা দিতে তাই বিরোধী শক্তিগুলো একজোট হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু, মায়াবতীর ঘোষণার বিরোধী ভোট ভাগ হবে। এতে সুবিধা পেতে পারে বিজেপি।