মাদকের জালে তরুণ প্রজন্ম

করোনা ভাইরাসের তাণ্ডবে পালটে গেছে সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের গতিধারা। করোনার প্রথম ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই শুরু হয়েছে দ্বিতীয় ধাক্কা। এই ভয়াবহ অবস্থার কারণে সমাজের মানুষগুলো যখন আতঙ্কিত এবং বেশ হতাশজনকভাবে সময় কাটাচ্ছে তার মধ্যেই ব্যাপক আকার ধারণ করছে সামাজিক ব্যাধিগুলো। ক্রমেই বেড়ে চলেছে সমাজের এরূপ ভয়াবহ অবস্থা, যার প্রভাবে করোনার পাশাপাশি মনুষ্যসৃষ্ট এমন সমস্যাগুলোও সমাজ ও দেশের মানুষের মধ্যে সৃষ্টি করছে অন্য রকম এক আতঙ্ক, যা দূষিত করে চলেছে আমাদের সমাজ ও দেশকে। চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের আগামীর ভবিষ্যত্।

দেশে করোনার এরূপ ভয়াবহ অবস্থাতেও দ্রুতগতিতে বেড়ে চলেছে মাদকদ্রব্যের ব্যবহার, যা এই সময়ে সমাজ ও দেশের ওপর চরম বিরূপ অবস্থা সৃষ্টি করছে। সমাজের এই ভয়াবহ ব্যধি  আমাদের কাছে এখন এক আতঙ্কের নাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। প্রতিনিয়তই আমরা টেলিভিশনের পর্দা কিংবা খবরের কাগজ খুললেই মাদক দ্রব্যের অবাধ ব্যবহার, চোরাচালান, মাদকের টাকা জোগাড় করতে ছিনতাই, খুন, ডাকাতি আবার কখনো অতিরিক্ত মাদক গ্রহণের ফলে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে আত্মহত্যার খবরও শোনা যাচ্ছে। আর লাগামহীন এই মাদকের জালে জড়িয়ে পড়েছে তরুণ সমাজ। তরুণদের বড় একটা অংশ ভয়াবহ এই মাদকের থাবায় চরমভাবে আক্রান্ত, যা ক্রমেই অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে প্রজন্মকে। কিন্তু তার পরও মাদক ব্যবসায়ীরা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে নানা প্রকারে তা চলমান রেখেছে,  যার শিকার হচ্ছে তরুণরা।

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে গাজা, মদ, ফেনসিডিল, ইয়াবা ছাড়াও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে আরেকটি মাদক, যা রীতিমতো দেশের মানুষের মাঝে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। যে মাদকের ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুও হয়েছে, মাদকটির নাম ‘এলএসডি’। গণমাধ্যম জুড়ে এটি এখন আলোচনা ও আতঙ্কের নাম। জানা যায়, এটি সেবনে মনের ভেতর এক অলীক মায়াজাল সৃষ্টি হয় বলে পশ্চিমা বিশ্বের মাদকসেবীদের কাছে পরিচিত ‘হ্যালুসিনোজেনিক ড্রাগ’ হিসেবে। ভয়াবহতার বিচারে এটিকে বলা হয় থাকে ‘লাস্ট স্টেজ অব ড্রাগ’। দুঃখজনক ও ভয়াবহ উদ্বেগের খবর হলেও সত্যি যে হেরোইন, কোকেন, খাট, আইস, এনপিএস, ইয়াবার পর এলএসডি নামের এ মরণনেশা এসে গেছে বাংলাদেশেও।

ভয়াবহ এলএসডিসহ সব ধরনের মাদকদ্রব্য থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে হলে আইনের কঠোরতা বৃদ্ধি ও তা নিশ্চিত করতে হবে। মাদক ক্রেতা ও বিক্রেতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে মাদকের জালেই নিষ্পেষিত হয়ে যাবে দেশের তরুণ সমাজ। ধারণা করা হয়, হতাশা ও নানা প্রকার দুশ্চিন্তার শিকার হয়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে তরুণেরা। এছাড়াও নেশাগ্রস্ত বন্ধুবান্ধবের সঙ্গ থেকেও এ জালে আটকে পড়ে তারা। তরুণেরা বর্তমান সময়ে দুশ্চিন্তায় আছে তাদের শিক্ষা খাত নিয়ে। তরুণদের এই কঠিন দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত করতে হবে।

তরুণ সমাজকে ভয়াবহ এই মাদকের জাল থেকে মুক্ত করতে চাই সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রকে আরো বেশি সচেতন হতে হবে। একটা শিশুর প্রথম শিক্ষালয় তার পরিবার আর তাই ছোটবেলা থেকেই মাদকদ্রব্যের ভয়াবহতা সম্পর্কে জ্ঞান দিতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সমাজ হয়ে উঠুক সুস্থ ও নিরাপদ।

n লেখক :শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়