ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে কাউনাই নদী পারাপার

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার আসমা বাজার থেকে গোড়ল সড়কের কাউনাই নদীর ওপর কোনো সেতু নির্মাণ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ২০ গ্রামের মানুষ। ফলে নদীর ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন তারা। দীর্ঘদিন ধরে নদীর এ অংশে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।

সরজমিনে জানা যায়, বারহাট্টার আসমা ইউনিয়নের মনাস বাজার থেকে একটি পাকা সড়ক গোড়ল এলাকা হয়ে কলমাকান্দার দশধার ও আমবাড়ি সড়কে গিয়ে মিশেছে। ঐ পথ দিয়ে গাবারকান্দা, দেওপুর, বাউসী, হাজিগঞ্জ, শেখেরপাড়া, ছয়গাঁওসহ অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ চলাচল করতে হয়। কিন্তু কাউনাই নদীর ওপর সেতু না থাকায় স্থানীয়ভাবে নির্মিত নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লোকজনকে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

বারহাট্টা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. সম্রাট খান (৩৪) ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সালেহীন (১৪) বলেন, ‘এলাকায় অনেক স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা আছে। স্কুল চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীরা এই সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার হয়। দুর্ঘটনায় অনেকেই বই-খাতা হারায়। ছয়গাঁও গ্রামের নজরুল (৫২) বলেন, ‘অনেকেরই জমি নদীর অন্য পারে। সেতু না থাকায় ফসল আনা যায় না। খেতেই কম মূল্যে বিক্রয় করতে হয়।’ গোড়ল এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হাকিম বলেন, নদীর ওপর প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ এই নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজারের মতো মানুষ চলাচল করে।

উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার আজাদ বলেন, ‘কাউনাই নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।’ এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, কাউনাই নদীর ওপর সেতু নির্মাণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মাইনুল হক কাসেম বলেন, উপজেলা সমম্বয় কমিটির সভায় কাউনাই নদীর ওপর সেতু নির্মাণের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। আশাকরি খুব শিগিগরই কাউনাই নদীর ওপর সেতু নির্মাণ ও ঐ এলাকার মানুষের দুর্দশা লাঘব হবে।