সময় যত গড়াচ্ছে সশরীরে পাবলিক পরীক্ষা নেওয়ার সম্ভাবনাও তত কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে চলতি লকডাউনে পরীক্ষা নেওয়ার অনিশ্চয়তা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ কারণে এসএসসি ও এইচএসসির মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা নিয়ে বিকল্প পথেই এগুতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা বিভাগের কাছে দুটি বিকল্পই গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একটি হলো গত বছরের মতো পূর্ববর্তী পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের ওপর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অ্যাসাইনমেন্ট জমা নিয়ে তা মূল্যায়ন।
এর আগে এসএসসির জন্য ৬০ কর্মদিবস ও এইচএসসির জন্য ৮৪ কর্মদিবসের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল, এ সিলেবাসের আলোকেই তাদের ৬০ দিন ও ৮৪ দিন ক্লাস নেওয়া হবে। এরপর কমপক্ষে ১৫ দিন সময় দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে। কিন্তু বর্তমানে করোনার প্রকোপ ঊর্ধ্বমুখী। সরকার এরই মধ্যে লকডাউন ঘোষণা করেছে। লকডাউন কতদিন চলবে তা নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতির ওপর। এ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকবে। ফলে সশরীরে পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা যে বাস্তবায়ন হবে না এটা অনেকটা নিশ্চিত। ফলে এখনই বিকল্প নিয়ে এগুতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেন, ‘আমরা সশরীরে পরীক্ষার জন্যই প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। এর বিকল্প কোনো কিছু থাকলে তা কর্তৃপক্ষই সিদ্ধান্ত নেবে।’
এদিকে কাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল এইচএসসি ও সমমানের ফরম পূরণ। কিন্তু করোনার ঊর্ধ্বগতির কারণে চলতি বছরের এইচএসসির ফরম পূরণ স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল রবিবার ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম আমিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের তারিখ ঘোষণা করেছিল ঢাকা বোর্ড।
যে দুই বিকল্প আলোচনায়
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, যদি সশরীরে পরীক্ষা নেওয়া না যায় এ ক্ষেত্রে দুটি বিকল্পই কার্যকর মনে হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের ঠিক গত বছরের আলোকে জেএসসি ও এসএসসির ফলের ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন করা হবে। ৭৫ শতাংশ এসএসসি ও ২৫ শতাংশ জেএসসির নম্বর নিয়ে এই মূল্যায়ন করা হয়েছিল। তবে সমস্যা হবে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে। কারণ তারা শুধু জেএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। তাদের জেএসসির ফল এবং অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে তার গ্রেড যোগ করে চূড়ান্ত ফল তৈরি করা যেতে পারে।
অন্য বিকল্পটি হতে পারে অ্যাসাইনমেন্টভিত্তিক। শিক্ষার্থীদের যে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস দেওয়া হয়েছিল, সে আলোকে এক মাস সময় দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা এই অ্যাসাইনমেন্ট বাসায় বসে লিখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসে জমা দেবে। এর আলোকে গ্রেডিং দেওয়া হবে, দেওয়া হবে চূড়ান্ত ফল। অথবা অ্যাসাইনমেন্ট এবং পূর্ববর্তী পরীক্ষার ফল এই দুটি মিলিয়েও এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফল তৈরি করা হবে।
প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির শুরুতে এসএসসি ও এপ্রিলের শুরুতে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। চলতি বছরের মধ্যে ২০২১ সালের পরীক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ না করা হলে আগামী বছরের (২০২২) এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে জটিলতা তৈরি হবে। তবে ২০২২ সালের পরীক্ষার্থীদের জন্য এরই মধ্যে অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা নিয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি রয়েছে। এই কমিটিতে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারাও আছেন। তারা বসেই এসব বিকল্পের বিষয় সিদ্ধান্ত নেবেন। এরপর শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে তা ঘোষণা করবেন। আগামী মাসেই এ ঘোষণা আসতে পারে।