করোনা রোগীর সেবা

কুষ্টিয়া ছাত্রলীগের স্বেচ্ছাসেবীদের অনন্য দৃষ্টান্ত

কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে করোনা রোগীর সেবায় মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ছাত্রলীগের স্বেচ্ছাসেবীরা। করোনা রোগী সেবার এই টিমে রয়েছেন ৬৫ জন স্বেচ্ছাসেবী। হাসপাতালের চিকিত্সক-নার্সদের সঙ্গে গত দেড় বছর ধরে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জান যায়, গত বছর করোনার সংক্রমণ শুরুর পর থেকেই কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক  শেখ হাফিজের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের উদ্যমী একদল তরুণ গঠন করেন স্বেচ্ছাসেবী এই টিম। আর এই তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের পৃষ্ঠপোষকতা করে চলেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহবুব-উল আলম হানিফ। তারা হাসপাতালে ভর্তিকৃত করোনা রোগীদের বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি ও অক্সিজেন সিলিন্ডার, মাস্ক সরবরাহ, বাথরুমে যেতে সহযোগিতা, ভাপ নিতে সহযোগিতা করে আসছেন। করোনায় মারা যাওয়াদের মধ্যে সংক্রমণ আতঙ্কে যাদের লাশ স্বজনেরা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এমন বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী ২৬ জনের সত্কারও করে স্বেচ্ছাসেবীদের এই টিম। রোগীর সেবা করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত এই টিমের ১৯ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। পরবর্তী সময়ে তারা করোনা নেগেটিভ হওয়ার পর আবার ফিরে আসেন সেবার কাজে। এখনো তাদের দুই সদস্য হাসপাতালে চিকিত্সাধীন।

হাসপাতালে রোগীদের অক্সিজেনের সংকট রোধে মাহবুব-উল আলম হানিফের উদ্যোগে ২০০ সিলিন্ডার হাসপাতালে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ, ব্যবসায়ী অজয় সুরেকা ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক আমজাদ হোসেন রাজু কোভিড-১৯ রোগীদের সার্বক্ষণিক বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি, মাস্কসহ সরবরাহের ব্যয় নির্বাহ করছেন। স্বেচ্ছাসেবী টিমের দলনেতা শেখ হাফিজ বলেন, ছাত্রলীগ সৃষ্টির পর থেকেই মানবতার কল্যাণে কাজ করে আসছে। তাদের সেবা ও মহানুভবতায় মৃত্যুপথযাত্রী রোগী যখন সুস্থ হয়ে ওঠেন, এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু নেই।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিত্সক (আরএমও) ডাক্তার তাপস কুমার সরকার জানান, ছাত্রলীগের স্বেচ্ছাসেবী টিমের মহত্ এই সেবা অনন্য দৃষ্টান্ত। হাসপাতালে লোকবলের সংকটকালীন স্বেচ্ছাসেবী টিমের এই সহয়তা না পেলে চিকিত্সাসেবা দারুণভাবে ব্যাহত হতো।

ছাত্রলীগের এই মানবিকতা জেলাব্যাপী দারুণ সাড়া ফেলেছে। দেশের বিত্তবানসহ অন্যদের জন্যও অনুকণীয় বলে হাসপাতালের চিকিত্সক-নার্সরা জানান। উল্লেখ্য, কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালটি সম্প্রতি করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে রূপান্তর করা হলেও এখানে চিকিত্সক, টেকনোলজিস্টসহ অন্যান্য লোকবল ও চিকিত্সা সরঞ্জামের সংকট রয়েছে।