শ্রীপুর (গাজীপুর) সংবাদদাতা
গাজীপুরের শ্রীপুরে সরকারি জমিতে তালপাতা ও বাঁশ দিয়ে তৈরি একটি ঘরেই নারী শিশুসহ ১১ জন বসবাস করেন। দিনমজুরি ও ভিক্ষাবৃত্তি করে খেয়ে না খেয়ে চলে তাদের সংসার। সম্প্রতি এমন খবর পেয়ে স্থানীয় মহিলা এমপি অধ্যাপক রুমানা আলী টুসি অসহায় ঐ পরিবারটিকে একটি টিনের ঘর তৈরি করে দেন। সম্প্রতি সাবেক ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম ওরফে নবী হোসেনের মাধ্যমে ঘরটি হতদরিদ্র পরিবারটিকে হস্তান্তর করা হয়।
উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের চাউবন গ্রামের রাজেন্দ্র চন্দ্র বর্মণের পুত্র বৃদ্ধ রজনী চন্দ্র বর্মণ তার দুই মেয়ে ও আট নাতি-নাতনিকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তালপাতার তৈরি একটি ঘরে বসবাস করে আসছিলেন। তার দুই মেয়েকে বিয়ে দিলেও কোনো সংসারই তাদের টেকেনি। তাদের প্রত্যেকের সংসারে চার জন করে আট ছেলে মেয়ে রয়েছে। অসহায় পরিবারটির খবর পেয়ে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি রুমানা আলী টুসি টিনের ছাপড়া ঘর নির্মাণ করে দেন।
নতুন ঘর পেয়ে রজনী চন্দ্র জানান, ‘ জীবনেও ভাবিনি নতুন ঘরে থাকতে পারব। মেয়ে ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে এক ঘরে খেয়ে না খেয়ে জীবন পার করছি।’ সাবেক ইউপি সদস্য জানান, তাদের মতো দরিদ্র বর্তমান সমাজে নেই বললেই চলে। তাদের পূর্ব পুরুষরা জমিদার ছিল। সব সম্পত্তি বিক্রি করে এখন নিঃস্ব। বর্তমানে তারা জঙ্গল থেকে কাঠ সংগ্রহ করে এবং মানুষের বাড়িতে মজুরি খেটে সংসার চালায়। এমপি অধ্যাপক রুমানা আলী টুসি জানান, ‘রজনীকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব ছিল। শুধু ঘর নির্মাণ করেই আমাদের দায়িত্ববোধ শেষ করতে পারি না। তার সংসার পরিচালনা করার মতো একটি ব্যবস্থা করাও আমাদের কর্তব্য।’