ফের মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে সংঘাত শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের। গত রবিবার পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ের প্রশাসন জিটিএতে (গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল। গতকাল সোমবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি পালটা অভিযোগ তুলে বলেন, ‘উনি নিজে বড় দুর্নীতিগ্রস্ত। হাওয়ালা জৈন কাণ্ডের চার্জশিটে কার নাম উল্লেখ ছিল? তারপর কীভাবে পার পেয়েছেন? সবার আগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া উচিত। জিটিএর দুর্নীতির কথা বলার আগে উনি কাদের নিয়ে, কত খরচ করে দার্জিলিং গেলেন, রাজভবনে কত খরচ হলো, সেসব নিয়েও তদন্ত হোক।’ মমতা বলেন, ‘?জৈন হাওয়ালা মামলায় রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের নামও ছিল। আদালতে গিয়ে নিজের নাম সরিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু এখনো একটি রিট পিটিশন পড়ে রয়েছে। তাতে ওর নাম রয়েছে।’
এরপরই কলকাতায় রাজভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। বলেন, ‘?হাওয়ালা চার্জশিটে আমার নাম নেই! মমতার অভিযোগ ভুল। তবে ওনার মতো বিচক্ষণ মানুষ এরকম বলবেন, ভাবিনি। উত্তেজনা তৈরি করতেই এই ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে।’ রাজ্যপাল বলেন, ‘হাওয়ালা কাণ্ডের চার্জশিটে অজিত পাঁজা (?তত্কালীন জাতীয় কংগ্রেস নেতা, পরে তৃণমূলে)?, যশবন্ত সিনহাদের (?বিজেপি)? মতো নেতাদের নাম ছিল। পরে তারা অভিযোগ থেকে মুক্ত হন। আমার বিরুদ্ধে কোনো তথ্যপ্রমাণ নেই। মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে এই ধরনের মন্তব্য করা উচিত নয়।’
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে কাশ্মীরি জঙ্গি আশফাক হুসেন লোনের গ্রেফতারিতে জৈন হাওয়ালা কাণ্ড প্রকাশ্যে আসে। আশফাক হিজবুল মুজাহিদিনের সদস্য বলে তদন্তে উঠে আসে। তাকে জেরা করে জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার ব্যবসায়ী সুরেন্দ্রকুমার জৈন এবং তার পরিবার মারফত হিজবুলের কাছে অর্থ সাহায্য যেত। তল্লাশিতে প্রচুর বিদেশি মুদ্রা, দুটি ডায়ারি, নোটবুক উদ্ধার হয়। সেখানে কয়েক জন রাজনৈতিক নেতার নামের আদ্যাক্ষর পাওয়া যায়, যাদের কাছ থেকে সুরেন্দ্র মারফত হিজবুলের কাছে টাকা যেত। ভারতের সর্বোচ্চ গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই চার্জশিটও দায়ের করলেও তদন্ত মাঝপথে থমকে যায়। পরবর্তী কালে ফের মামলা শুরু হয়। সেই সময় গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, সুরেন্দ্রর বাড়িতে উদ্ধার নোটবুকে ধনকড় বলে এক ব্যক্তির নাম ছিল। তিনি তত্কালীন জনতা দলের এমপি ছিলেন। বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন, সেই সময় ভারতের সংসদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি। পরবর্তী কালে বিজেপিতে যোগ দেন ধনকড়। সুরেন্দ্রর বাড়িতে উদ্ধার হওয়া নোটবুকে ‘এলকে আদভানি’ বলে এক জনের নামও উল্লেখ ছিল। যদিও সেই ‘ধনকড়ই’ পশ্চিমবঙ্গের এখনকার রাজ্যপাল এবং সেই ‘?এলকে আদভানি’? লালকৃষ্ণ আদভানি কি না, তা এখনো স্পষ্ট হয়নি।
প্রসঙ্গত, ১৯৮৯ সালে বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, সেই সময় পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় ছিলেন লোকসভার এমপি। জনতা দলের হয়ে রাজস্থান থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সংসদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীও হন। পরে বিজেপিতে যোগ দিয়ে রাজস্থান বিধানসভার এমএলএ নির্বাচিত হয়েছিলেন।