আদালতে মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা, হয়রানি ও অর্থ ব্যয়ের কারণে মানুষ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিরোধ স্থানীয় পর্যায়ে সমাধানে বেশি আগ্রহী। ইউনিয়ন পর্যায়ে জনগণের সুবিধার্তে এ ধরনের বিরোধ মীমাংসার জন্য রয়েছে গ্রাম আদালত। পৌরসভা পর্যায়ে রয়েছে বিরোধ মীমাংসা (পৌর এলাকা) বোর্ড আইন ২০০৪। ফলে ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ের জনগণ তাদের মধ্যে সংঘটিত ক্ষুদ্র বিরোধে আদালতে না গিয়ে স্থানীয়ভাবে ইউনিয়ন পরিষদ এবং পৌরসভার মাধমে মীমাংসার সুযোগ নিয়ে হয়রানি ও অর্থ বাঁচাতে সক্ষম হচ্ছে; কিন্তু দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনে বসবাসরত প্রায় ২ কোটি মানুষের জন্য এ ধরনের কোনো আইন নেই। ফলে ক্ষুদ্র বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য তাদের আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়। তাই সিটি করপোরেশনে বসবাসরত নাগরিকদের জন্য ‘নগর আদালত আইন’ প্রণয়নের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরম, বাংলাদেশ; মাদারীপুর লিগ্যাল এইড অ্যাসোসিয়েশন (এমএলএএ); বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এবং নাগরিক উদ্যোগ। ‘নগর আদালত আইন : প্রস্তাবিত রূপরেখা এবং বাস্তবায়নের সম্ভাবনা’ শীর্ষক এই ভার্চুয়াল সংলাপটি গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ২৭ লাখ ২১ হাজার ৮৮৪। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক তথ্যমতে ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩৯ লাখ ৩৩ হাজার ১৮৬টি।
সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এমপি, নগর আদালতের ব্যাপারে নীতিগতভাবে একমত পোষণ করে বলেন, গ্রাম আদালতসহ প্রস্তাবিত নগর আদালতের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরো বলেন, জনপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে পারলে এই উদ্যোগ সফল করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, প্রস্তাবিত নগর আদালতে নারী ওয়ার্ড কমিশনারকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করেন এবং এই আদালতের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে এই আদালত গঠনের জন্য তার সমর্থন জানান।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) নির্বাহী পরিচালক, ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, বাস্তব অবস্থায় নারী-পুরুষনির্বিশেষে বেশির ভাগ মানুষ বিচারব্যবস্থা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন না খরচ, দূরত্ব ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার কারণে। সেজন্য কাঠামোগত পরিবর্তন করে বিচারব্যবস্থাকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরমের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সংলাপে সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, সুবিচার পাওয়া আমাদের মৌলিক অধিকার। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নগর আদালত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নগর আদালতকে শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করতে হবে। নগর আদালতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ; কিন্তু তারপরেও নগর আদালতকে প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।