আবুল খায়েরের গুচ্ছ কবিতা

ধূসর জীবন আমার 

জীবন যেমন যাচ্ছে কেটে যেতে দেয়া হোক 
চোখের জলেই হবে দূর মনের যত শোক 
আঁধার কেটে আলো এসে তবে ভোর হোক 

তুমি যদি শান্তি পাও আমার কষ্ট দেখে 
আমিও  তাই কষ্টকে নিলাম গায়ে মেখে 

রঙ্গিন আলোয় কাটুক দিন জয় তোমার হোক  
প্রণয় নেশা থেমে একদিন, প্রাণে প্রেম জাগুক 
মরণ আসুক, ধূসর জীবন ধূসরে পড়ে থাকুক।

-------------------------------------------

ধর্ষিতার আহাজারি

আমাকে কেনো তোমরা করছো ব্যবচ্ছেদ
আমাকে বলো, কতটা উন্মুক্ত হবো
আমি নিজেকে বিদীর্ণ করে দেবো 
তোমাদের প্রয়োজনে নিঃসঙ্কোচে!

হাজার বছর ধরে হাজার মাইল দূরে
লাল পাহাড়ের পাশ দিয়ে গভীর অরণ্য 
শুভ্র ছোঁয়া সবুজ বনানীর আকুল করা
দেবদারুর সুশীতল ছায়া যেন জঘন্য।

আমিতো চেয়েছিলাম আর দশটা মানুষের 
মতো মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকতে,  
সমাজে স্বামী-সংসার, ছেলে-মেয়ে নিয়ে
নিজের মতো করে জগতটাকে সাজাতে।

আমি যন্ত্রণায় যখন ছটফট করছিলাম
একটা শক্ত বিছানায়, পিপীলিকার মিছিল
আমাকে ঘিরে, যেন কোনো বিয়ে বাড়ি
বুঝলাম আমার মধ্যে আমি আর নেই।

--------------------------------------

আমার এই দেশ

আমার দেশের আলো বাতাস
সৃষ্টিকর্তার দান
বিশ্বে কোথাও নেই এমন
জুড়ায় দেহ প্রাণ।

লোভ হিংসা ভুলে গিয়ে
আমার দেশের মানুষ 
নানান জাতি গোষ্ঠিরা সব
উড়ায় শান্তির ফানুস।

আমার দেশের বৃষ্টি বাদল
আমার দেশের কৃষি
ফুল ফসলে ভরে তুলতে
কৃষকরা সব ঋষি।

ব্যস্ত থেকো গড়তে সবাই
সোনার এই দেশ ভাই
শ্রমিক মজুর জেলে তাঁতী
কোনো ভেদাভেদ নাই।

ফকির মজনু লালন বাউল
সুখে গান গায়
দেশ মাতার হৃদয়খানি
দোলা দিয়ে যায়।

-----------------------------

বিমূর্ত দিন  

এই দিন এই মূর্হুত 
কখন যে হবে বিমূর্ত  
এই হাসি এই মায়াময় আবেগ 
লালগালিচায় রঙিন পেগ  
এই চিরচেনা পথ সবুজ ঘাস 
কোথায় যে হারাবে র্দীঘশ্বাস ।

এই বহমান খরস্রোতা নদী 
চলবে আর কতো নরিবধি
কবে এই নিখিলে থাকবে না হাহাকার 
কতো আরো দখেবো জীবনের ছারখার।

----------------------------------------

সাম্যের কবি-নজরুল

দুঃখ’কে করেছ সাথী, তুমি দুখু মিয়া
সাম্যের গান গেয়ে, ভয়কে করেছ জয় 
মাতাল করা সুর, ক্লান্তহীন দুপুর ‘অগ্নিবীণা’য় 
বাঁশের বাঁশি রণতুর্য, মশাল হাতে চিতায়।

নির্বিচারে চালিয়েছে যত স্টিমরোলার 
প্রভূরূপী বে-জাত ব্রিটিশ বেনিয়া,
অত্যাচারের খড়কহস্ত উঠেছিলে কেঁপে 
নওজোয়ান লৌহমানব তোমায় দেখে। 

কলম চলেছে তারুণ্যের উদ্দীপনায়
কবিতা লিখেছ অন্ধকার জেলখানায় 
‘দুর্দিনের যাত্রী’দের দিয়েছ ‘যুগ-বাণী’ 
করুণ আর্তনাদ ‘রাজবন্দির জবানবন্দি’।

মোক্তবের ছাত্র, মুয়াজ্জিন-ইমাম
গ্রাম্য লেটো-দলের যাত্রার নায়ক
বেকারী দোকানের কর্মঠ শ্রমিক
অতন্ত্র প্রহরী তুমি সৈনিক। 

দ্রোহের কবি, তুমি বিদ্রোহী
যৌবনের কবি, তারুণ্যের প্রভাত,
বঞ্চিত জনতার আলোকবর্তিকা
শাসকের বুকে কুঠারাঘাত।

মুয়াজ্জিনের আযান পছন্দ তোমার
মসজিদের পাশে আছ নিদ্রায়,
বাংলা ভাষা হয়েছে সমৃদ্ধ 
তোমার সুনিপূন হাতের নিষ্ঠায়।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি