জনপ্রিয় এক ইউটিউবার দম্পতির গল্প

>> জুনাইদ হাবীব

 

দেশের জনপ্রিয় মডেল-অভিনেত্রী নওশীন নাহরীন মৌ এবং আদনান ফারুক হিল্লোল দম্পতি। এক সময় শোবিজ অঙ্গনে দাপিয়ে বেড়াতেন। খ্যাতি অর্জন করেছেন টিভি পর্দায় দুজনই। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে সফল এ দম্পতি এবার ইউটিউবেও নিজেদের আবির্ভাব ঘটিয়েছেন। পর্দার তুমুল জনপ্রিয়তা ছাপিয়ে ইউটিউবে বিচরণ করে সফল হয়ে ওঠার গল্প নিয়ে আলাপ করেছেন দেশের জনপ্রিয় এ তারকা জুটি। রেডিও এফএমের যুগে একসময় অভিনেত্রী নওশীন নাহরীন মৌ-কে রাজকন্যা বলা হতো। তার কণ্ঠ শুনে লাখো শ্রোতা মুগ্ধ হতেন। সে সময়কার রেডিওর স্বর্ণালীযুগে পা দিয়ে মিডিয়ায় পথচলা শুরু করলেও পরে অভিনয়েও যুক্ত হন। মূলত অভিনেত্রী হিসেবেই জনপ্রিয়তা লাভ করেন; তবে পর্দার সেই চেনা নওশীন ইউটিউবে এখন একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। স্বামী আদনান ফারুক হিল্লোলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইউটিউব যাত্রায়ও সর্বদিক বেশ মুখর করছেন।

যেখান থেকে শুরু নওশীন-হিল্লোলের সম্পর্ক

নওশীন বলেন, ‘সম্পর্কের শুরুটা হয়েছিল আমরা একসঙ্গে একটি ছবি করছিলাম ‘হ্যালো অমিত’। তখন তার সঙ্গে আমার পরিচয় হলো। পরিচয় বলতে আমিও তাকে আগে থেকে চিনতাম সে-ও আমাকে চিনতো, কিন্তু আলাপ হয়নি। ছবিটি করতে গিয়ে তার সম্পর্কে আমার একটু বেশি জানা হয়েছে এবং সেইসঙ্গে তারও আমার সম্পর্কে একটু বেশি জানা হয়েছে। সেখান থেকে দুজন দুজনের প্রতি ভালো ধারণা তৈরি হলো। পরবর্তীকালে ২০১১ সালে যখন আমরা প্রায় সময় বিভিন্ন কাজের জন্য একসঙ্গে হতাম, সেই থেকেই সম্পর্কের শুরু। আমরা একটা শুটিংয়ে সারাদিন একসঙ্গে কাজ করেছিলাম এবং এরপর আমার একটি লাইভ শো ছিল বলে আগে আগে বেরিয়ে পড়তে হয় আমাকে। সেখানে পৌঁছানোর পর আমি একটি টেক্সট ম্যাসেজ পেয়েছিলাম আদনান ফারুক থেকে। ম্যাসেজটি ছিল— ‘আই থিংক আই স্টার্টেড মিসিং ইউ’। তিনি আবার এটিও লিখেছিলেন যে ‘সরি, আমার বোধ হয় এই ম্যাসেজটি পাঠানো ঠিক হয়নি’। আমি এন্সার দিয়েছিলাম লাইভ শুরু হওয়ার পর এবং আমি বলেছিলাম কেউ যদি ভেবে থাকে তার ম্যাসেজ পাঠানোটি ভুল তাহলে সে ভুল, কিন্তু তার ম্যাসেজ পাঠানোটি ঠিকই ছিল। এভাবেই আমাদের সম্পর্কের শুরুটা হলো। এরপর ২০১৩ সালে আমরা দুজন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হই।’

আদনান ফারুক দীর্ঘ ১৬ বছর কাজ করেছেন শোবিজ অঙ্গনে। এক সময় মিডিয়া পাড়ায় অভিনয়ের মাধ্যমে বাজিমাত্ করেছিলেন। ‘এখন পর্যন্ত অসংখ্য নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করার পর বিচরণ ইউটিউবে কেন?’— এমন প্রশ্নের জবাবে আদনান ফারুক বলেন, ‘আসলে বাস্তবে আমি যা-ই করি না কেন এই কাজগুলোর নিজস্বতা ছিল না। নাটক, ফিল্ম করলেও এসব তো প্রযোজক কিংবা টিভি পর্দার জন্য। এখানে তো নিজস্বতা বলতে কিছুই ছিল না। তাই এমন ভাবনা থেকে মাথায় এলো ইউটিউবের মতো এমন একটি প্ল্যাটফর্মকে কিভাবে কাজে লাগানো যায়। আমি যেহেতু ভ্রমণ করি, আর ভোজনরসিকও—তাই এদিকটাতে নিজেকে তুলে ধরলাম। একটি ইউটিউব চ্যানেল ক্রিয়েট করলাম ২০১৭ সালে। মার্চের দিকে সূচনা করা এই চ্যানেলটিতে ভ্রমণ ও বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে ঘুরাফেরা করে খাবারের স্বাদ ও মান নিয়ে বর্ণনা দিতাম। সেসব ইউটিউবের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা অসম্ভব ভালো সাড়া পাচ্ছিলাম।’

আদনান ফারুক দুই বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবার নিয়ে ভ্লগ করেছেন অসংখ্য। শুধু তাই নয়, দুবাইসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে ঘুরে সেখানকার খাবার সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেন। বর্তমানে ইউটিউবে আদনান ফারুক নামে তার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলটির  সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা প্রায় ছয় লাখ।

স্বামী আদনান ফারুকের মাধ্যমেই ইউটিউবের আইডিয়া পেয়েছেন বলে জানান নওশীন। তিনি বলেন, ‘আমার কনটেন্ট ক্রিয়েটিংয়ের শুরুটা হয়েছে পুরোটা আদনান ফারুকের থেকে। ২০১৯ সালের দিকে আমরা থাইল্যান্ডে ঘুরতে গিয়েছিলাম এবং তখন থেকেই আদনান নিয়মিত ট্রাভেলিং ভিডিও বানাতেন। সেখানে গিয়ে হঠাত্ করে আমারও মনে হলো—আমিও কিছু করতে চাই। এভাবেই শুরু হয়েছিল। এককথায় যদি বলি তাহলে বলব, আদনান ফারুকের অনুপ্রেরণা ও সার্বিক সহযোগিতায় আমার কনটেন্ট ক্রিয়েটিংয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং এখনও চলছে।’

বর্তমানে নওশীনের কন্টেন্টে তৈরি হয় নিজেদের নানাবিধ জীবনাচরণের গল্প। যেখানে ঠাঁই পায় তারকা আলাপনও। আগামী দিনেও এ দুই তারকা নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে চান।