বাপকা বেটা’র পথচলা

>> ফারহাত মাইশা

 

৬ মাস বয়স থেকে ছেলেকে সামনে বসিয়ে গিটার বাজাতেন ও গান করতেন বাবা। কথা বলতে শেখার পর থেকেই বাবার সঙ্গে গিটারের সুরে সুর মেলাতে শুরু করল ছোট্ট ঋতুরাজ। সেই থেকে বাবা ছেলে একসঙ্গে গান গেয়ে ভিডিও আপলোড করা শুরু করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আর বনে যান ‘বাপকা বেটা’। বলছি শুভাশীষ ভৌমিক ও ঋতুরাজ ভৌমিকের কথা। ইন্টারনেট দুনিয়ায় যাদের পরিচিতি ‘বাপকা বেটা’ হিসেবে। গানের পাশাপাশি নিয়মিত বিভিন্ন বিজ্ঞাপনেও কাজ করছেন তারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে বিভিন্ন জনপ্রিয় গান কভার করে পরিচিতি মিলেছে ‘বাপকা বেটা’ হিসেবে। বাবা শুভাশীষ ভৌমিক পেশায় একজন প্রকৌশলী। গানের প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকলেও কর্মজীবনের ব্যস্ততায় সরে এসেছিলেন গানের জগত্ থেকে। কিন্তু ছেলে ঋতুরাজের জন্মের পর পাল্টে গেলো অনেককিছু। ঋতুরাজকে সঙ্গী করে বাবা শুভাশীষ ভৌমিক ফের গিটারের সুরে সুর মিলানো শুরু করলেন। বাবার দেখাদেখি ঋতুরাজেরও গানের প্রতি আগ্রহ তৈরি হলো। বাবা ও ছেলের গানের সুন্দর মুহূর্তগুলো সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্য থেকে বাপকা বেটা ব্যান্ডের সৃষ্টি। আর এভাবেই বাবা ও ছেলের গানের প্রতি ভালোবাসা থেকে শুরু হলো ‘বাপকা বেটা’ ব্যান্ড। তাহসানের ‘আলো আলো’ গানটি দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল এই জুটির। প্রথম গানেই বাজিমাত এবং এখন নিয়মিত জনপ্রিয় বিভিন্ন গান কভার করে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিচ্ছেন তারা। ফেসবুক ও ইউটিউব মিলে প্রায় ৫ লাখ মানুষ যুক্ত আছেন বাপকা বেটা’র সঙ্গে। শুভাশীষ ভৌমিক বলেন, ‘দর্শক বাপকা বেটা’কে এতটা পছন্দ করবে ও ভালোবাসা দিবে ভাবতে পারিনি। ভক্তদের এত এত ভালোবাসা আমার কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার একজন ভক্তের বাবা তাদের ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন অনেক বছর আগে। বাবা দিবস উপলক্ষ্যে আমাদের একটি ভিডিও তিনি তার বাবাকে পাঠান। ভিডিওটি দেখার পর তার বাবার মধ্যে মমত্ববোধ জাগ্রত হয় এবং বহুবছর পর তিনি তার মেয়ের সঙ্গে কথা বলেন। এটি ছিল আমাদের সেরা এক অর্জন।’ বিভিন্ন সময়ে অবশ্য  সোশ্যাল মিডিয়াতে নেতিবাচক সমালোচনার শিকারও হয়েছেন তারা। তবে এ নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন নন তারা। সব ধরনের সমালোচনা ছাপিয়ে শুভাশীষ যেন নিজেদের প্রাপ্তিটা খুঁজে নিচ্ছেন দর্শকদের ভালোবাসায়। বাপকা বেটা ব্যান্ডের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা সম্পর্কে শুভাশীষ ভৌমিক বলেন, ‘আমরা শুরুটা করেছিলাম নিজেদের জন্য। কিন্তু একটা সময় পর মনে হলো সামাজিক দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে কিছু করা উচিত। সেই ভাবনা থেকে আমরা শুরু করেছি ‘মূল্যবোধের পাঠশালা’ যেখানে ৬-১২ বছর বয়সী শিশুদের বাবা-মায়েরা কিভাবে মূল্যবোধ শিক্ষা দিতে পারেন তা নিয়ে কনটেন্ট বানাচ্ছি। আমরা চেষ্টা করব মানুষকে গানের মাধ্যমে আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি সোশ্যাল ম্যাসেজ পৌঁছে দিতে।’

শুভাশীষ ভৌমিক বর্তমানে কর্মরত আছেন একটি অস্ট্রেলিয়ান মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে। অন্যদিকে ঋতুরাজের বয়স মাত্র ৭ বছর; বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে। পড়ালেখার পাশাপাশি গানের চর্চা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিবেশনা নিয়ে সক্রিয় ঋতু গিটার ও হারমোনিয়াম বাজাতেও পারদর্শী। বাবা-ছেলে দুজনেরই পছন্দের গায়ক তাহসান খান।