করোনায় ইন্দোনেশিয়ার অবস্থা ‘বিপর্যয়ের’ প্রান্তে :রেডক্রস

রয়টার্স

করোনা ভাইরাসের অতি সংক্রামক ধরন ডেল্টা ছড়াতে থাকায় ইন্দোনেশিয়ায় কোভিড-১৯-এর বিস্তার ‘বিপর্যয়ের’ প্রান্তে আছে বলে সতর্ক করেছে রেডক্রস। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির হাসপাতালগুলোও শিগিগরই তাদের সামর্থ্যের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যাবে বলেও মঙ্গলবার সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থাটি।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ২০ হাজারেরও বেশি রেকর্ড দৈনিক শনাক্তের কথা জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। রমজানের পর দেশটিতে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে আর করোনা ভাইরাসের অতি সংক্রামক একটি ধরন আবির্ভূত হওয়ার পর সংক্রমণের নতুন ঢেউ শুরু হয়। বিশ্বব্যাপী টিকার সরবরাহে আরো গতি আনার আহ্বান জানিয়ে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি) ইন্দোনেশিয়া প্রতিনিধি দলের প্রধান জান গেলফ্যান্ড বলেন, ‘প্রতিদিন আমরা দেখছি, এই ডেল্টা ধরন ইন্দোনেশিয়াকে কোভিড-১৯ বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।’ ‘রেড জোন’ বলে ঘোষিত অনেকগুলো হাসপাতাল তাদের সামর্থ্যের চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি করার কথা জানিয়েছে। এগুলোর মধ্যে রাজধানী জাকার্তার হাসপাতালও আছে। রবিবার পর্যন্ত এ হাসপাতালগুলোর আইসোলেশন বেড ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত রোগীতে পূর্ণ হয়ে ছিল।

আইএফআরসির বিবৃতির বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সিতি নাদিয়া তারমিজি বলেন, ‘অবাধ চলাফেরা ও বিধিনিষেধে শিথিলতার মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে হাসপাতালগুলো রোগীতে পূর্ণ হয়ে গেছে, ডেল্টা ধরনের কারণে পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়েছে।’

করোনা ভাইরাসের ডেল্টা ধরনটি প্রথম ভারতে শনাক্ত হয়েছিল আর বহু দেশে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির জন্য এই ধরনটিকে দায়ী করা হচ্ছে। করোনা ভাইরাস মহামারি নিয়ন্ত্রণের জন্য জানুয়ারি থেকে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে ইন্দোনেশিয়া, কিন্তু এখনো পর্যন্ত দেশটির ১৮ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার মধ্যে মাত্র ১ কোটি ৩৩ লাখ লোককে দুটি ডোজ দিতে পেরেছে। সংক্রমণ নজিরবিহীনভাবে বাড়তে থাকায় ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব করেছেন বলে সরকারি আলোচনার সঙ্গে যুক্ত সূত্রগুলো জানিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র উদ্ধৃত করে স্ট্রেইট টাইমস সংবাদপত্র মঙ্গলবার জানিয়েছে, সরকার বুধবার থেকে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করতে পারে। এ সময় রেস্তোরাঁয় খাওয়া-দাওয়া বন্ধ ও অভ্যন্তরীণ বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে নেগেটিভ পলিমারেজ চেইন রিয়্যাকশন পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হতে পারে।