পরীক্ষা, চিকিত্সা আর মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে

দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সপ্তাহের পর সপ্তাহ লকডাউন ও কঠোর বিধিনিষেধ অব্যাহত আছে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না বরং দিন দিন অবনতির দিকেই যাচ্ছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের উপসর্গ থাকলেও অসংখ্য ব্যক্তি পরীক্ষা না করে এবং কোনোরকম স্বাস্থ্যবিধি না মেনে বাড়িতে থেকেই চিকিত্সা নেওয়ার চেষ্টা করছে। ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি ও পরিবারের সদস্যরা অবাধে সর্বত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে। যে কারণে সংক্রমণের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। অবস্থার অবনতি হলেই কেবল রোগীকে হাসপাতালে আনা হচ্ছে এবং পরীক্ষা করা হচ্ছে। হাসপাতালে আনা বেশির ভাগ রোগীর অবস্থা এতই মুমূর্ষু থাকে যে, তখন আর চিকিত্সা দিয়েও ঐ রোগীকে বাঁচানোর সুযোগ থাকে না। এ কারণেই মৃতের সংখ্যাও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাজেই নিজ নিজ এলাকার জনসাধারণকে সচেতন করতে অবিলম্বে জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। এই জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলায়  সংসদ সদস্য থেকে ওয়ার্ড কাউন্সিলর পর্যন্ত, সব জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদেরও জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। এখন আমাদের প্রধান দায়িত্ব হলো, কোনো ব্যক্তির করোনা উপসর্গ দেখা দিলেই, দ্রুততার সঙ্গে পরীক্ষা ও চিকিত্সার ব্যবস্থা করতে হবে। আর শতভাগ মানুষকে সঠিকভাবে মাস্ক ব্যবহারে বাধ্য করতে হবে। ব্যাপকভাবে পরীক্ষা, চিকিত্সা আর মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসবে। লকডাউন দিয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ঘরে বসে থাকলে এই দুর্যোগ থেকে জাতিকে রক্ষা করা যাবে না।

বিপ্লব বিশ্বাস, ফরিদপুর।