স্পোর্টস রিপোর্টার
ক্রোয়েশিয়া স্পেনের ম্যাচটার শুরুতে বুঝাই যায়নি খেলার শেষ দিকে এতটা রোমাঞ্চ ছড়াবে। যে ম্যাচটা আত্মঘাতী গোল দিয়ে শুরু হলো সেই ম্যাচটার ৯০ মিনিট শেষে অতিরিক্ত সময়ের লড়াইয়ে পরতে পরতে রোমাঞ্চ ছড়িয়ে দিল। ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত এমন রোমাঞ্চকর ম্যাচে স্পেন ৫-৩ গোলে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। আগামী ২ জুলাই রাশিয়ার সেন্টপিটারবার্গের স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে স্পেন।
এবারের ইউরোতে ক্রোয়েশিয়া স্পেনের ম্যাচেই সবচেয়ে বেশি আট গোলের রেকর্ড দেখলেন দর্শক। তবে এটা কোনো রেকর্ড নয়। কারণ এর আগেও ইউরোতে বেশি গোলের ম্যাচ দেখেছেন দর্শক। ১৯৬০ সালে ইউরোতে এক ম্যাচে ৯ গোল হয়েছিল। যুগোস্লাভিয়া ৫-৪ গোলে ফ্রান্সকে হারিয়েছিল। স্পেন-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে আরেকটি গোল হলে ৬১ বছরের আগের রেকর্ড স্পশ করে ফেলত।
স্পেন এই ম্যাচে অন্য একটি রেকর্ড গড়ে নিয়েছে, ইউরোর গ্রুপ পর্বে স্পেন ৫-০ গোলে স্লোভাকিয়াকে হারিয়েছিল।
সোমবার রাতে স্পেনের বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়া আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে ছিল। স্পেনের পেদ্রি গনজালেস ব্যাকপাস করেছিলেন গোলকিপার উনাই সিমনকে। এই গোলকিপার ডান পায়ে কীভাবে বলটা রিসিভ করলেন তা বুঝা গেল না বল গোলকিপারের পায়ে লেগে নিজেদের জালে ঢুকে যায়। গোলটা বার বার টিভির পর্দায় দেখানো হচ্ছিল আর দর্শকও বিস্মিত হয়ে যাচ্ছিল। এটা আবার গোল হয় কীভাবে। স্পেনের ভুলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েও ২০১৮ বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা ক্রোয়েশিয়া বিদায় নিল। লুকা মদ্রিতচরা ২০ মিনিটে এগিয়ে গিয়েও গোল হজম করল ২৮ মিনিটে। স্পেনের পাওলো সারাবিয়া গোল করেন সমতা আনেন। ম্যাচের গতিও পালটে যায়। ক্রোয়েশিয়াও আবার নতুন করে জেগে উঠে। ৫৭ মিনিটে স্পেনের ডিফেন্ডার সিজার আজফিলিকুয়েটা গোল করে এগিয়ে দেন। ৭৬ মিনিটে ব্যবধান বাড়িয়ে নে তোরেস। সবাই বলাবলি করছিল ম্যাচ শেষ, স্পেন জিতে গেছে। ততক্ষণে ম্যাচের সময়ও প্রায় শেষ। শেষ মুহূর্তে নাটকীয় দুই গোল করে সমতা আনে ক্রোয়েশিয়ার মিরস্লাভ অরসিচ এবং ইনজুরি টাইমে ৩-৩ ব্যবধানে সমতা আনেন মারিও পাসালিচ। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। সেখানে গিয়ে আর ক্রোয়েশিয়া পেরে উঠেনি। ২০১০ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেনের আলভারো মোরাতা এবং এর পরই মিকেল ওয়ারজাবাল পঞ্চম গোলটি করে ৫-৩ ব্যবধানে ক্রোয়েটদের বুকে পেরেক ঠুকে দেন।