পর্যায়ক্রমে ৮০ ভাগ মানুষকে টিকার আওতায় আনা হবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতা সম্পর্কে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, যত টাকাই লাগুক সরকার প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন সংগ্রহ করবে এবং পর্যায়ক্রমে ৮০ শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের যে কোনো প্রয়োজনে দ্রুততার সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে মানুষের পাশে দাঁড়াবেন বলেও উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা শেখ হাসিনা গতকাল মঙ্গলবার একাদশ জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনে (২০২১-২২ সালের বাজেট অধিবেশন) প্রদত্ত ভাষণে একথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভ্যাকসিন কেনার জন্য বাজেটে আমরা ১৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছি। বিভিন্ন উত্স হতে ইতোমধ্যে ১ কোটি ১৪ লাখ ৬ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন সংগ্রহ করেছি।’ তিনি বলেন, ‘যখন ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা চলছিল পৃথিবীর সব জায়গায়, আমরা যোগাযোগ করি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদন দেওয়ার আগেই আমরা টাকা পাঠিয়ে ভ্যাকসিন বুক করেছি। দুর্ভাগ্যজনক যে ভারতে হঠাত্ করোনা এত ব্যাপকহারে বেড়ে গেল যে তারা ভ্যাকসিন রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা সাময়িকভাবে সমস্যায় পড়ে গেছি। কিন্তু আল্লাহর রহমতে বর্তমানে আমাদের ব্যবস্থা হয়ে গেছে। এখন আর কোনো সমস্যা হবে না। চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ ভ্যাকসিন উত্পাদনকারী সব কোম্পানির সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত আছে। আশা করছি, জুলাই মাস থেকে আরো ভ্যাকসিন আসবে। ব্যাপকভাবে ভ্যাকসিন প্রদান শুরু করব’।  সংসদ নেতা বলেন, ‘কোন ভ্যাকসিন কোন বয়স পর্যন্ত দেওয়া যাবে তার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তা বিবেচনায় রেখে আমরা স্কুল থেকে শুরু করে সবাই যাতে ভ্যাকসিন পায় এবং এর মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে পারি সেই ব্যবস্থা নেব। যারা বিদেশ যাচ্ছে তাদের আগে ভ্যাকসিন দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যাতে বিদেশে গিয়ে তাদের কোয়ারেন্টাইন করতে না হয়। যেন তারা কর্মস্থলে যেতে পারে সেই ব্যবস্থা নিয়েছি।  শেখ হাসিনা বলেন, ‘মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাব সত্ত্বেও সরকারের পদক্ষেপে আমাদের অর্থনীতি পূর্ণাঙ্গভাবে পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে। আমাদের সরকার সংকটকালে দেশের মানুষের পাশে আছে। মানুষের পাশে থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘এই বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে সর্বাপেক্ষা অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। গত বছর আমরা করোনার প্রথম ঢেউ সফলভাবে মোকাবিলা করেছি। সেই অভিজ্ঞতায় দ্বিতীয় ঢেউয়ে আমরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। মহামারি মোকাবিলা করে জনস্বাস্থ্য ও জনজীবন সুরক্ষা করতে আমরা সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাসে সারাবিশ্ব ক্ষতিগ্রস্ত এমন সময় আমরা বাজেট দিয়েছি। একদিকে সারাবিশ্ব করোনায় আক্রান্ত অন্যদিকে আমাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন করছি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন করছি। একই সময় বাংলাদেশকে আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করতে পেরেছি। যে দেশকে জাতির পিতা স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে রেখে যান। এই তিনটি গৌরবময় অধ্যায়ের মধ্যে করোনায় জর্জরিত আমাদের এই বাজেট। করোনায় বিশ্ব অর্থনীতির এই স্থবিরতার মধ্যেও যেন বাংলাদেশের মানুষের জীবন গতিশীল থাকে সেজন্য এই বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থনীতিতে করোনার নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও সরকার দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে।’