ইউরোর গ্রুপ পর্বের খেলা যখন শুরু হয়েছিল তখন সবার নজর ছিল ‘এফ’ গ্রুপে। রাশিয়া বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স, ইউরোর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল, ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন জার্মানি এবং অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল হাঙ্গেরী ছিল এই গ্রুপে। ডেথ গ্রুপ হতে বড় কোনো দল বাদ পড়বে সেটা অনুমেয় হলেও শীর্ষ তিন দলই নকআউটে ছিল। বিদায় নিয়েছিল হাঙ্গেরী। গ্রুপ পর্বের ধুন্ধুমার লড়াইয়ের পর নকআউটের লড়াইও শেষ। এবার কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই। ইউরোর সবচেয়ে আকর্ষণ ছিলেন পর্তুগীজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পুর্তগাল বিদায় নেয়ায় রোনালদোর পারফরম্যান্স দেখার পর্দা নেমে গেছে। আর তাতেই যেন ইউরোর অর্ধেক আলো কমে গিয়েছে। অনেকের চোখে ইউরোর মঞ্চ ক্ষানিটা হলেও বিবর্ণ হয়ে গেছে।
ইউরোর সবচেয়ে আকর্ষণই ছিলেন সিআরসেভেন। তার বিদায়ে অনেক দর্শক মাঠ থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। সিআরসেভেন যতটা দ্যুতিময় ফুটবল উপহার দিতে পারেন সেটা হয়ত সবার পায়ে থাকে না। ২০১৬ ইউরো পর্তুগাল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে রোনালদোই যেন অর্ধেক খেলে দিয়েছিলেন। ৩৬ বছর বয়সী জুভেন্টাস তারকা রোনালদো আগামী ইউরোতে তার বয়স হবে ৪০। তখন সেই গতিময় ফুটবলটা খেলে দিতে পারবেন কিনা তা নিয়ে আশংকা থাকছে। রোনালদোর ভক্তরা সেটা নিয়ে তর্ক করতে পারেন।
গ্রুপ পর্ব হতে বিদায় নেন পোলিশ ষ্ট্রাইকার বায়ার্ন মিউনিখের লেভানডস্কি, প্রথম নকআউট হতেই বিদায় নেন ওয়েলসের ফরোয়ার্ড ট্যাটেনহামের ফরোয়ার্ড গ্যারেথ বেল। এক্সিট রোডে উঠেছেন রোনালদো। তাঁর বিদায়ের পর যাদের দিকে ইউরোর আলো পড়েছিল বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের এমবাপে, গ্রীজম্যান, পল পগবা, করিম বেঞ্জামাদের উপর। চোখ ছিল বিশ্বকাপ জয়ী ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদ্রিচের দিকে। কিন্তু একে একে সবাই বাড়ি চলে গেছেন। ব্যক্তি নৈপুন্যে এই খেলোয়াড়দের ওপর বাংলাদেশের দর্শকদেরও চোখ ছিল। ঠোঁঠের আগায় যাদের নাম মুখস্থ থাকে তাদের একটা তালিকা করলে দেখা যায় ইউরোর মঞ্চ যাদের নিয়ে আলোকিত সেই সব মহাতারকারাই বিদায় নিয়েছেন।