ফের শক্তি দেখাচ্ছে ইরান

তৌহিদ আজিজ

 

ফের নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শন করল ইরান। পশ্চিমা বিশ্বের যাবতীয় হুমকি-ধমকি উপেক্ষা করে শক্তিমত্তা প্রদর্শনের এ খেলায় এবার তারা তাদের বহরে যুক্ত করল দূরপাল্লার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র। আর এর ফলে আন্তর্জাতিক মহলে কিছুটা হলেও উত্তাপের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষমতাধর দেশগুলো বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগাচ্ছিল তার বিপরীতে তেহরানের এই অস্ত্রের সক্ষমতা কিছুটা হলেও শক্ত দুর্গে আঘাত করার মতো অবস্থার তৈরি হয়েছে।

ইসলামি বিপ্লবের বার্ষিকী উদযাপনের সময় অতি সম্প্রতি ইরান তার এই ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করে। এটি ১ হাজার ৩’শ কিলোমিটার পাল্লার একটি ক্ষেপণাস্ত্র। ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য এই ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম হোভেইজেহ এবং এটি সৌমার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরিবার থেকে এসেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আমির হাতামি এর পর্দা উন্মোচন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, হামলার প্রস্তুতি নিতে এ ক্ষেপণাস্ত্রটি খুবই কম সময় নেবে এবং অল্প উচ্চতায় এটি উড়তে পারবে। অনুষ্ঠানে ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর এরোস্পেস বিভাগের প্রধান আমিরালি হাজিজাদেহ বলেছেন, এই ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য জেট ইঞ্জিন তৈরিতে প্রথম দিকে যে সমস্যা হয়েছিল ইরান তার সমাধান করেছে এবং এ ধরনের সব রকম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এখন তৈরি করতে পারবে তারা। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি কিংবা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অভিযোগ দেশটির বিরুদ্ধে নতুন কোনো কথা নয়। এর আগেও তারা বহুবার এ ধরনের পরীক্ষা চালিয়েছে। আর এতে করে পশ্চিমা বিশ্ব দেশটির বিরুদ্ধে চটেছে মারাত্মকভাবে। তাই আবার নতুন করে তাদের এই ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পশ্চিমা বিশ্বে নতুন দুশ্চিন্তার ছাপ ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পশ্চিমা বিশ্বের উদ্বেগ সত্ত্বেও ইরানের এই অস্ত্রের সক্ষমতা তৈরির প্রতিযোগিতা বিশ্ব পরিস্থিতিকে আরো অস্থির করে তুলবে। এর আগে (আগস্ট মাসে) উপসাগরে নৌ মহড়া চালিয়েছিল ইরান। সেসময়ে তাদের ৬’শ নৌযান তাতে অংশ নেয়। তার একদিন আগে তারা সমুদ্রে বিমান মহড়া চালায়। ইরান তখন বলেছিল, কোনোভাবেই তারা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা থেকে পিছু হটবে না। ইরানের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক দা-কুমড়া সম্পর্কে পরিণত হয়। ফলশ্রুতিতে ইরানকে এখনও নানা অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার খড়গ মাথায় নিয়ে চলতে হচ্ছে।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বরাবর খারাপ থাকলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে এই সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি খারাপ আকার ধারণ করে। কারণ এই সময়েই যুক্তরাষ্ট্র ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে তেহরানের স্বাক্ষরিত চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসে। আর এরপর থেকেই দু’দেশের সম্পর্ক তলানিতে এসে পৌঁছায়। বলা যেতে পারে একেবারে খারাপ অবস্থায় গিয়ে ঠেকে। যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে নিজেদের সরিয়ে নিলেও অনেক দেশ কিন্তু চুক্তিতে বহাল থাকার জন্য চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর আলোর মুখ দেখেনি। তাই অনেকে বলছেন, পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে আসায় প্রকারান্তরে তারা ইরানকে আরো বেসামাল হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। কেননা এতোদিন তারা একটা চুক্তির যাঁতাকলে ছিল, এখন তারা সেই রাহুগ্রাস থেকে মুক্তি পেয়েছে। এ অবস্থায় খুব স্বাভাবিকভাবেই ইরান যে সুবোধ বালকের মতো বসে থাকবে না সেটাই স্বাভাবিক। তার উদাহরণ আমরা সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিভিন্ন কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ডের মধ্যে পাই। প্রথমেই ধরা যেতে পারে তারা উপসাগরীয় এলাকায় হঠাত্ কেন সামরিক মহড়া চালিয়েছিল। এর উত্তর খুব সহজ। তারা তাদের বলয়ের মধ্যে থেকে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিতে চাইছে।

ইরানের ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, এর মাধ্যমে তারা এই বার্তা দিতে চাইছে যে, বন্ধু দেশের প্রতি তাদের যেমন সহমর্মিতা ও আন্তরিকতা রয়েছে তেমনি শত্রু দেশকেও তারা ঘায়েল করতে সবকিছু করতে পারে। সেসময়ে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, যদি শত্রু দেশ তাদের সীমানার দিকেও তাকায় তাহলে তারা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তারা তার জবাব দিবে।