এক সপ্তাহ নিখোঁজ জাবি শিক্ষার্থী, সন্ধান চেয়েছে পরিবার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) রসায়ন বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান রাজু নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজ জাহিদের সন্ধানের দাবি জানিয়েছে তার পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীরা। বুধবার (৩০ জুন) দুপুর একটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শ্রেণিকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান রাজুর মা আকলিমা বেগম বলেন, গত ২৪ জুন সন্ধ্যায় ঢাকার মিরপুরের একটি মেস থেকে নিখোঁজ হয় জাহিদ। এরপর থেকে একাধিকবার তাকে ফোন দিলেও বন্ধ পাওয়া যায়।

তিনি আরো বলেন, জাহিদ নিখোঁজ হওয়ার পর বিভিন্ন মোবাইল নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে টাকা চেয়েছে। আমরা সামর্থ্য অনুযায়ী টাকা পাঠিয়েছি। তারপরেও আমার ছেলের কোন সন্ধান তারা দেয়নি। টাকা দেওয়ার পরেই প্রতারক চক্রের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। আমি আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই। আমার ছেলের খোঁজ পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নিখোঁজ শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান রাজুর স্ত্রী হাফসা আক্তার বলেন, আমাদের এক বছরের একটি শিশু কন্যা আছে। এই কয়দিন সে তার বাবার সাথে কথা বলতে পারছে না। সারাক্ষণ মোবাইলে বাবার ছবি দেখে আব্বু, আব্বু ডাকে। যতদ্রুত সম্ভব আমার স্বামীর সন্ধান চাই। আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি ছিলেন তিনি। আমার স্বামীর সন্ধান পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগীতা কামনা করছি।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রাজধানী মিরপুরের মেস থেকে মাগরিবের নামাজ পড়তে বের হন জাহিদ। তবে নামাজ শেষে তিনি আর বাসায় ফিরে আসেননি। তখন থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল দু’টি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পাওয়ায় শনিবার (২৬ জুন) পল্লবী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে পরিবার (জিডি নং- ২৩৯২)।

পল্লবী থানার ওসি পারভেজ ইসলাম বলেন, নিখোঁজ জাহিদ হাসানকে উদ্ধার করতে আমরা সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো সন্ধান মেলেনি। গতকাল আমরা একটা সংবাদ পাই মৌলভীবাজারে তাকে পাওয়া গেছে, সে অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করি কিন্তু হদিস পাওয়া যায়নি। তার পরিবার দাবি করছে গত ২৬ তারিখে তার ফোন থেকে কল এসেছে কিন্তু এর সত্যতা আমরা পাইনি। তার ফোন সর্বশেষ চালু ছিলো ২৪ তারিখেই। এরপর থেকে আর কোনো তথ্য আমরা পাচ্ছি না।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মাহবুব কবীর, অধ্যাপক সুবর্ণা কর্মকার, সহযোগী অধ্যাপক আওলাদ হোসেন। এছাড়া নিখোঁজ জাহিদ হাসানের ছোট শিশু তাবিয়া এবং তার সহপাঠীরা।

ইত্তেফাক/এনএ