হলি আর্টিজানে হামলার পাঁচ বছর
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় নিহতদের স্মরণ
ইত্তেফাক রিপোর্ট
‘সারা বিশ্বেই জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক রয়েছে। সাইবার ওয়ার্ল্ডের মাধ্যমে তারা তাদের প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা রিক্রুটিংও করার চেষ্টা করছে। তারা ভার্চুয়াল সাইটকে ব্যবহার করে তাদের সদস্যদের প্রশিক্ষণও দিচ্ছে। তবে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ ডিএমপির সিটিটিসি ইউনিট সব বিষয়গুলোকে নজরদারির মধ্যে রেখেছে। বড় ধরনের কোনো হামলার আশঙ্কা এখন আছে বলে আমরা মনে করি না।’
হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পাঁচ বছর পূর্তিতে গতকাল ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে গুলশান থানার সামনে স্থাপিত ভাস্কর্যে (এসি রবিউল ও ওসি সালাউদ্দিনের) ফুলেল শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের কাছে পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম এসব কথা বলেন। পরে সেখানে শ্রদ্ধা জানান র্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনিরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান।
এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান আসাদুজ্জামান বলেন, জঙ্গিবাদ এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। বড় ধরনের হামলা চালানোর কোনো সক্ষমতা নেই জঙ্গি সংগঠনগুলোর। দেশের বাইরে থেকে দুই জন জঙ্গি সদস্য দেশের অভ্যন্তরে জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে।
দেশের ঐ সব জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় জড়িত ছিল তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলা তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। আদালত রায় দিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিটিটিসির যুগ্ম কমিশনার ইলিয়াস শরীফ, উপ-কমিশনার আব্দুল মান্নান ও মিডিয়া শাখার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ইফতেখায়রুল ইসলাম।
এদিকে, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় জঙ্গি হামলায় নিহতদের স্মরণ করা হয়েছে। যারা শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন—ঢাকাস্থ চার দেশের দূতাবাসের কর্মকর্তা, ডিএমপি কমিশনার এবং র্যাব ডিজি। গতকাল সকাল ৯টায় হলি আর্টিজানে হামলার স্থানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট আর্ল মিলার, ইতালির রাষ্ট্রদূত এনরিকো, জাপানের রাষ্ট্রদূত নাওকো ইতো ও ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী। পরে সেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন চার দেশের রাষ্ট্রদূত।
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এক বার্তায় বলা হয়েছে,‘আমরা অবন্তিকা কবিরকে স্মরণ করছি। অবন্তিকা কবির ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিক এবং এমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে স্মরণ করছি জঙ্গি হামলায় নিহত হওয়া অন্যদের। যেসব পুলিশ কর্মকর্তা জঙ্গিদের মোকাবিলা করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন, তাদেরও স্মরণ করছি।’
র্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জঙ্গি দমনে র্যাবের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জঙ্গিরা অনলাইন প্ল্যাটফরম ব্যবহার করে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। র্যাবের নিয়মিত অভিযান ও নজরদারির কারণে জঙ্গিরা তত্পরতা দেখাতে পারছে না।