আন্তঃজেলা বাস ডাকাত দলের পাঁচ সদস্য গ্রেফতার
ইত্তেফাক রিপোর্ট
ওরা গভীর রাতে নির্জন মহাসড়কের দুই পাশে ঝোপের ভেতর ওত পেতে থাকে। যাত্রীবাহী বাস যেতে দেখলেই লোহাজাতীয় কিছু ছোড়ে বাসটি লক্ষ্য করে। বাসের জানালা বা উইন্ডশিল্ডের কাচ ভেঙে গেলে বাসটি থেমে যায়। তখন ওরা মহাসড়কের দুই পাশ থেকে বের হয়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে গাড়িতে উঠে পড়ে। এরপর বাসের চালকের আসনে ওদের এক জন বসে পড়ে। বাসযাত্রীদের জিম্মি করে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে ওরা এক পর্যায়ে নেমে যায়। এভাবেই একটি আন্তঃজেলা বাস ডাকাত চক্র গত দুই বছর ধরে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে গভীর রাতে বাস ডাকাতি করেছে।
সিআইডি তদন্ত করে এই ডাকাত চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো—মনসুর মিয়া ওরফে ছোট মনসুর ওরফে আকাশ, ইউনুছ আলী, কাজল মিয়া, আল আমিন ও মিজানুর রহমান ওরফে শাহরুখ খান। বুধবার মালিবাগে সিআইডির কার্যালয়ে এ সব তথ্য জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশেষ পুলিশ সুপার খায়রুল আমিন, বিশেষ পুলিশ সুপার মাকসুদুর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজাদ রহমান।
মুক্তা ধর বলেন, সম্প্রতি ঢাকা, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লাসহ ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনা সংঘটিত হয়ে আসছে। গত ১০ মার্চ রাত ২টার দিকে টাঙ্গাইল সদর থানাধীন ভাতকুড়া করটিয়া এলাকার ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কে অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জন সশস্ত্র ডাকাত রংপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে হামলা চালায়। এ সময় তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আরোহীদের মালামাল লুটে নেয়। ঘটনাটি তদন্ত করে মঙ্গলবার রাতে পাঁচ ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহূত দেশীয় অস্ত্র এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরো বলেন, আসামিরা ২০০৩ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান সামগ্রী লুটে নিচ্ছিল । তাদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম, নরসিংদী, টাঙ্গাইল, নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় ডাকাতি, হত্যাসহ একাধিক মামলা আছে। এদের মধ্যে ডাকাতদলের প্রধান মনসুর মিয়া ২০১২ সালে মালদ্বীপ যায় শ্রমিক হিসেবে। ২০১৯ সালে দেশে ফিরে সে আবারও বাস ডাকাতিতে লিপ্ত হয়।