কঠোর লকডাউনে ৪৭৬ জন আটক

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে দেশ জুড়ে কঠোর লকডাউনের প্রথম দিন গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীতে পুলিশের পাশাপাশি টহলে নেমেছে সেনাবাহিনী এবং বিজিবি। এদিন যানজটের রাজধানীকে দেখা যায় অচেনা রূপে। খুব স্বল্পসংখ্যক গাড়ি ছিল, তাই জটও ছিল না। লকডাউন বাস্তবায়নে নগরীর মোড়ে মোড়ে ও চেকপোস্টে ছিল পুলিশের পাশাপাশি অন্য বাহিনীর সদস্যরাও। অকারণে বের হলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছিল। এ কড়াকড়ির মধ্যে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে কোনো গণপরিবহন চলতে দেখা যায়নি। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কে মানুষের চলাচল বাড়তে দেখা গেছে। সেনা সদস্যরা বিভিন্ন পয়েন্টে গাড়ি থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। যাদের মুখে মাস্ক নেই তাদের মাস্ক পরার জন্য বলছেন। এছাড়া মূল সড়কগুলোতে রিকশা                 যাতে সারিবদ্ধভাবে চলে সে বিষয়টিও খেয়াল রাখছেন। তবে কোনো একটি জায়গায় বেশিক্ষণ থাকছে না সেনাবাহিনী। তারা রাজধানীতে ঘুরে ঘুরে জনগণকে সচেতন করছেন। সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সারা দেশেই টহল দিচ্ছে সেনা সদস্যরা।

অন্য দিকে বিধিনিষেধ অমান্য করে বিনা কারণে ঘর থেকে বের হওয়ায় রাজধানীতে ৪৭৬ জনকে আটক করা হয়েছে। তেজগাঁও, শাহবাগ, রমনা, মোহাম্মদপুর ও মিরপুর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এর মধ্যে গ্রেফতার দেখিয়ে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে ৭৩ জনকে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ডিএমপি আরো জানায়, আটককৃত ব্যক্তি ও ১০টি দোকানের কাছ থেকে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দণ্ডবিধির ধারা ২৬৯ অনুযায়ী প্রায় ৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। লকডাউন দেখতে বের হওয়ায় ৪৬টি গাড়ি রেকারিং ও ছয়টি গাড়ি আটক করা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে রিকশা ও সীমিত আকারে ব্যক্তিগত গাড়ি চলতে দেখা গেছে। পুলিশ বিভিন্ন চেকপোস্টে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জরুরি প্রয়োজনে অনেকে বের হয়েছেন। এছাড়াও শিল্পকারখানা, ব্যাংক, গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের প্রতিষ্ঠানের যানবাহনে অথবা পরিচয়পত্র নিয়ে বের হতে দেখা গেছে। বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য বিভিন্ন এলাকায় সেনাবাহিনীর টহল দেখা গেছে।

এদিকে, যারা রাস্তায় চলাচল করেছেন, তাদের অনেকের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। কেউ কেউ মাস্ক পরলেও তা রেখে দিয়েছেন থুঁতনির নিচে। যারা মাস্ক পরেননি, তাদের জরিমানা করছেন র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এই অপরাধে যাত্রাবাড়ী এলাকায় ১৫ জনকে জরিমানা করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আক্তারুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন  ভ্রাম্যমাণ আদালত। বেশি জরিমানা গুনেছে রিকশাচালকরা।

এদিকে, রাজধানীর শ্যামলীতে কোনো পুলিশ চেকপোস্ট না থাকায় অবাধে চলেছে প্রাইভেট কার ও মোটরবাইক। ছিল লোকসমাগমও। অধিকাংশ ব্যবসায়ী দোকানের শাটার অর্ধেক নামিয়ে মালামাল বিক্রি করছিলেন। ছিল মানুষের আড্ডাও। গাবতলী বেড়িবাঁধে দেখা যায়, অবাধে চলছে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক। চার থেকে পাঁচ জন যাত্রী এক সঙ্গে পরিবহন করা হচ্ছে এগুলোতে। সুযোগ বুঝে হাতিয়ে নেয় অধিক ভাড়া।

অন্যদিকে লালবাগ থানার সামনে, সোয়ারীঘাট পুলিশ চেকপোস্ট, বাবুবাজার ব্রিজের নিচে, ইসলামপুর কাপড়ের মার্কেট, বাংলাবাজারের মোড়, বাহাদুরশাহ পার্ক এলাকা রায়সাবাজার মোড়সহ আশপাশের এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় স্বল্পসংখ্যক পুলিশ সদস্যকে শাটডাউন কার্যকর করার জন্য অনেকটা ঢিলেঢালাভাবে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।

উল্লেখ্য, সাত দিনের কঠোর লকডাউন বাস্তবায়ন করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বুধবার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এ সাত দিন সব অফিস, যানবাহন ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে। সরকারি বিধিনিষেধ মানতে এবং মানুষের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে মাঠে টহলে থাকবে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, কোস্ট গার্ড ও আনসার সদস্যরা।