দস্যুতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাওয়ায় কাল হলো একরামের

দস্যুতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাওয়াই কাল হলো মহেশখালীর একরামের (৩০)। বুধবার রাতে মাতারবাড়ীর উত্তর রাজঘাট ওয়াপদাপাড়া এলাকায় তাকে কুপিয়ে হত্যার পর কোহেলিয়া নদীতে ফেলে যায় সন্ত্রাসীরা। গত বছর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে অস্ত্র জমা দিয়ে কারাভোগের পর সম্প্রতি জামিনে এসে তিনি এ হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কবির নামে একজনকে ধরে গণপিটুনির পর পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। নিহত একরামুল হক মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নের উত্তর নলবিলার মৃত আব্দুস ছাত্তারের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাতারবাড়ীর উত্তর রাজঘাট ওয়াপদাপাড়া এলাকায় বেড়াতে আসে একরাম। এ সময় ওত পেতে  থাকা সন্ত্রাসীরা তাকে কোহেলিয়া নদীর পাড়ে নিয়ে কুপিয়ে ও চোখ উপড়ে হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলে যায়। এলাকাবাসী স্থানীয় ইউপি সদস্য ও পুলিশকে এ খবর দিলে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এছাড়া জনতা এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বৃহস্পতিবার সকালে উত্তর নলবিলা এলাকা থেকে কবির নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

নিহতের মামাতো ভাই জানান, একরাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। কিন্তু মহেশখালীর কালারমারছড়ার চালিয়াতলী ও মাতারবাড়ী সড়কে সম্প্রতি ডাকাতি সংগঠিত হয়। ঐ ডাকাতদের ধরতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করছিল একরাম।

মাতারবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, এলাকাবাসীর কাছ থেকে ঘটনা শুনে মনে হচ্ছে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

মহেশখালী থানার ওসি আব্দুল হাই বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।