কন্টেইনার হ্যান্ডলিং এবং শুল্কআদায়ে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসের রেকর্ড

সমাপ্ত অর্থবছরে (২০২০-২০২১) চট্টগ্রাম বন্দর ও চট্টগ্রাম কাস্টমসের কনটেইনার হ্যান্ডলিং ও শুল্ক আদায় বিগত অর্থবছরকে ছাড়িয়ে গেছে। চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃক কনটেইনার হ্যান্ডলিং ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড করেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রবৃদ্ধি বিগত অর্থবছরের চেয়ে ৩ দশমিক ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের প্রবৃদ্ধি গত বছরের চেয়ে বেশি হয়েছে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৯৫ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হয়ে থাকে। আমদানি-রপ্তানির প্রধান গেটওয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃক সমাপ্ত অর্থবছরে (২০২০-২০২১) কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ৩০ লাখ ৯৭ হাজার ২৩৬টি। গত অর্থবছরে (২০১৯-২০২০) কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ ছিল ৩০ লাখ ৪ হাজার ১৪২টি। সমাপ্ত অর্থবছরে বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ৯৩ হাজার ৯৪টি। অন্যদিকে সমাপ্ত অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃক খোলা পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছে ১১ কোটি ৩৭ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টন। গত অর্থবছরে হয়েছিল ১০ কোটি ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ২৭২ টন।

চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজের সংখ্যাও সমাপ্ত অর্থবছরে পূর্ববর্তী অর্থবছরের (২০১৯-২০২০) চেয়ে বেশি এসেছে। সমাপ্ত অর্থবছরে জাহাজ এসেছে ৪ হাজার ৬২টি। অন্যদিকে গত অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ এসেছিল ৩ হাজার ৭৬৪টি। জাহাজ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও সমাপ্ত অর্থবছরে রেকর্ড করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শাহজাহান ইত্তেফাককে জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সমন্বয়ের ফলে চট্টগ্রাম বন্দর কার্গো, কনটেইনার ও জাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। এক্ষেত্রে বন্দর ব্যবহারকারীরাও সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। করোনাকালে চট্টগ্রাম বন্দর সচল থাকা এবং সড়কে যানবাহন কম থাকায় চট্টগ্রাম বন্দরের ডেলিভারি বৃদ্ধি পেয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে বন্দরের উত্পাদনশীলতাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে দেশের প্রধানতম শুল্ককেন্দ্র চট্টগ্রাম কাস্টমসে শুল্ক আদায়ে গত বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসে সমাপ্ত অর্থবছরে (২০২০-২০২১) প্রবৃদ্ধি ছিল গত অর্থবছরের চেয়ে ২৩ দশমিক ২০ শতাংশ। সমাপ্ত অর্থবছরে শুল্ক আদায় হয়েছে ৫১ হাজার ৫৬৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা। গত অর্থবছরে ছিল ৪১ হাজার ৮৫৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। তবে চট্টগ্রাম কাস্টমস তাকে দেওয়া নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা সমাপ্ত অর্থবছরে অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬৪ হাজার ৩০৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। 

চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম ইত্তেফাককে জানান, অনিয়ম রোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অপরাধ ও অন্যায়ের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার ফলে গতবারের চেয়ে বেশি শুল্ক আদায়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে পণ্যের সঠিক ভ্যালুয়েশনের কারণে কাঙ্ক্ষিত শুল্ক আদায় সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য যে পরিমাণ আমদানি দরকার ছিল, তা না হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।