দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয়পত্র প্রমিত উচ্চারণের নিয়ম

মো. কামরুল হাসান, প্রভাষক

শামছুল হুদা খাঁন কলেজ

ঝিনাইদহ।

 

শুদ্ধ উচ্চারণ চর্চা

(পর্ব ১)

সুন্দর করে কথা বলা একটি শিল্প। ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষের আচরণের অনুষঙ্গ । প্রতিটি ভাষার সর্বজনগ্রাহ্য একটি উচ্চারণরীতি থাকে ।

সত্যি কথা বলতে, আরবি বা ইংরেজি শিক্ষার জন্য আমরা যেভাবে উচ্চারণরীতি সম্বন্ধে জানি বাংলা শেখার জন্য আমরা অধিকাংশ মানুষই কখনো সে ধরনের চেষ্টা করি না । আমাদের শিক্ষা পদ্ধতির মধ্যে এ বিষয়ে অবহেলা কাজ করছে দীর্ঘদিন ধরে।

আমরা চাই শারীরিক ও মানসিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি বাচনিক সৌন্দর্য যুক্ত হোক প্রতিটি মানুষের জীবনে।

শুদ্ধ উচ্চারণ চর্চার জন্য করণীয়:

১. শুদ্ধ উচ্চারণে কথা বলতে হবে এ ধরনের একটি মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে ।

২. নিজের কথার শ্রোতা হিসেবে নিজের কানটিকে তৈরি করতে হবে ।

৩. কথা বলার সময় কোনো শব্দের ভুল উচ্চারণ হলে তা ঠিক করে আবার বলার চেষ্টা করতে হবে ।

৪. বই বা পত্র-পত্রিকা পড়ার সময় শব্দের বানানগুলো একটু লক্ষ রাখতে হবে ।

৫. বেশি করে সংবাদপাঠ ও আবৃত্তি শুনতে হবে এবং নাটক ও পুরোনো দিনের চলচ্চিত্র দেখতে হবে ।

­­

শুদ্ধ উচ্চারণ চর্চার জন্য কিছু প্রতিবন্ধকতা

১. বাংলায় সবসময় লিখিত রূপ ও উচ্চারিত রূপ এক রকম হয় না। যেমন:লিখিত রূপ ‘পদ্মা’। উচ্চারিত রূপ ‘পদ্দা’ (‘পদ্মা’ নয়)।

২. বাংলায় কখনো কখনো একই বর্ণের একাধিক উচ্চারণ হয়। যেমন:নদ (নদ্), নদী (নোদি) ।

৩. বাংলায় কখনো কখনো একাধিক বর্ণের একই রকম উচ্চারণ হয়। যেমন:জনগণ (জনোগন্);সবিশেষ (শবিশেশ্)।

৪. মহাপ্রাণ ধ্বনির উচ্চারণ প্রায়শই অল্পপ্রাণ ধ্বনির মতো করে ফেলি । এতে শব্দের উচ্চারণ ভুল হয় এবং ক্ষেত্র বিশেষে অর্থও বদলে যায়। যেমন:ভাত (ভুল উচ্চারণ হলো ‘বাত্’; সঠিক উচ্চারণ হলো ‘ভাত্’); অন্ধ (ভুল উচ্চারণ হলো ‘অন্দো’; সঠিক উচ্চারণ হলো ‘অন্ধো’); হঠাত্ (ভুল উচ্চারণ হলো ‘হটাত্’, সঠিক উচ্চারণ হলো ‘হঠাত্’) ।

৫. আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলা ।

৬. বাংলা ভাষার প্রতি দরদের অভাব ।

উল্লিখিত প্রতিবন্ধকতাগুলো না থাকলে আমাদের পক্ষে শুদ্ধ উচ্চারণ চর্চা আরও সহজ হয়ে যেত।